ধামরাই (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:৫০ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ২০:৩৫ পিএম
প্রতীকী ছবি
ঢাকার ধামরাইয়ে বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা সালিশের মাধ্যমে এক লাখ টাকায় মীমাংসা করা হয়েছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের চরডাউটিয়া গ্রামের মনির হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বসে ধর্ষণচেষ্টা মীমাংসা করা হলেও বিষয়টি শুক্রবার (৬ অক্টোবর) জানাজানি হয়।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাকপ্রতিবন্ধীর বড় ভাই ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠা ওই ব্যক্তির নাম বুদ্দু মিয়া। তিনি উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের চর ডাউটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বুদ্দু মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
বাকপ্রতিবন্ধীর মা বলেন, ‘আমরা দুপক্ষ মিল হইয়া গেছি। মনির হোসেন আমাগো মিল কইরা দিছে। বুবাকে (বাকপ্রতিবন্ধী) এক লাখ টাকা দিছে।’ আপনারা আইনের আশ্রয় হিসেবে থানায় অভিযোগ করেছেন, মীমাংসার বিষয়টি থানায় জানিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘মনির কইলো আপনাকে জিগাইলে বলবেন, আমার মিল হয়ে গেছি, আর যা বলার আমি থানায় বলব।’
মীমাংসা করা মনির হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দুপক্ষ আমার কাছে এসেছিল। আমি মীমাংসা করে দিয়েছি। মেয়ের বাবা আমাকে বলেছে, আমি মামলা করতে চাই না, আমাদের আপস-মীমাংসা করে দেন। সুন্দর একটা সমাধান করে দিয়েছি, আপনারা যদি এখন বাড়ান তাহলে আমার কিছুই করার নাই। মেয়েকে দিয়েছি এক লাখ টাকা আর ২০-২৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ছিল, যা থানা-পুলিশ, সাংবাদিক আছে তাদের দিয়েছি। পুলিশ, সাংবাদিক সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি শেষ করেছি।’
আপনি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা মীমাংসা করতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ধর্ষণচেষ্টা ঘটনা আইনে কোনো দিন কাভার করে না। যারা সমাধান করে তারা ফাইসা যায়। মেয়ে, মেয়ের মা, ভাই, তিনজনই বলছে মীমাংসা করে দিতে। তাই মীমাংসা করে দিছি।’
ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার একটি অভিযোগ পেয়েছি। পরদিন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছি।’
মনির হোসেন পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য টাকা দিয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ’পুলিশকে ম্যানেজ করার কিছুই নাই। এ বিষয়ে কোনো কথা হয় নাই। অভিযোগে একটা মুরব্বির নাম দিয়েছে যার বয়স অনেক। তার নাম বাদ দিয়ে এজাহার দিতে বলেছি। ওরা আর এজাহার দিতে আসেনি। আর ওই মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার কথা বুঝি না। তারপরও মেয়ের মাকে বলেছি, যদি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা হয়ে থাকে তাহলে মামলা দেন। আমরা পরবর্তীতে তদন্ত করে দেখব।’
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুণ অর রশিদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পেয়েছি। তবে বাদীপক্ষ মামলা করতে থানায় আসেনি। মীমাংসার বিষয় আমার জানা নেই।’
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে বাড়িতে রেখে তার বাবা ও মা বাইরে কাজে গেলে বুদ্দু মিয়া বাকপ্রতিবন্ধীর বাড়িতে প্রবেশ করে। সে তাকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের জন্য তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিলে চিৎকার করে। চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে বুদ্দু মিয়া দৌড়ে পালিয়ে যায়। ওই মেয়ের পরিবার বাড়িতে এসে জানার পর রাতেই ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।