× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

উত্তরাঞ্চলের নদনদীতে পানি বাড়ছেই

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:০২ এএম

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩ ১০:৪৮ এএম

ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুং থাং বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্লাবিত হয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার নিচু ও চরাঞ্চল। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িহাট এলাকা থেকে তোলা ছবি। প্রবা ফটো

ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুং থাং বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্লাবিত হয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার নিচু ও চরাঞ্চল। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িহাট এলাকা থেকে তোলা ছবি। প্রবা ফটো

ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুং থাং বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডুবে গেছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ পাঁচ জেলার নিচু ও চরাঞ্চল। এতে শুধু গাইবান্ধা জেলার চার ইউনিয়নেই জলবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার মানু্ষ। কুড়িগ্রামে জলবন্দি হয়েছে পাঁচ হাজার মানুষ, খোলা হয়েছে ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র। উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য অঞ্চলের নদনদীর পানিও বাড়ছে ভারতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায়। অন্যদিকে অতি বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তলিয়ে গেছে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ৯০ সেন্টিমিটার বেড়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তায় পানি বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে মহানন্দা, ছোট যমুনা, করতোয়া, আত্রাই ও গুর নদীসমূহের পানি সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে। তা ছাড়া আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় দেশের উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস থাকায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ধরলা, দুধকুমার, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুনর্ভবা, কুলিখ, ইছামতি, যমুনা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। 

গাইবান্ধায় জলবন্দি ১০ হাজার মানুষ

গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক বলেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ি, মাদারিপাড়া, পাড়া সাদুয়া, কানিচরিতা বাড়ি, রাঘব, কারেন্ট বাজার, বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা, জিগাবাড়ি, পঞ্চানন্দ পলাশতলা, বেলকা নবাবগঞ্জ ও কিশামত সদর, কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামেরচর, কাজিয়ারচর, পোড়ার চর, কেরানির চর, রাজার চর, মিন্টু মিয়ার চরসহ তারাপুর, চন্ডিপুর ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তাতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছে।


এর আগে গত বুধবার থেকে জনসাধারণকে সতর্ক করতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনভর মাইকিং করেছে উপজেলা প্রশাসন। তিস্তা নদীবেষ্টিত চর ও নিচু অঞ্চলের মানুষকে দ্রুত উঁচুস্থানে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার চরচরিতাবাড়ী গ্রামের মিন্টু মিয়া বলেন, ‘বুধবার বিকাল থেকে তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে এই চরের বেশ কিছু নিচু এলাকা ডুবে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে পানি সরে না গেলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরীকুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে পানি আসার খবরে উপজেলার সকল ইউনিয়নের জনগণকে গরু-ছাগলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সতর্ক থাকতে এবং কাছাকাছি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বা ফ্ল্যাট শেল্টারে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগে নৌকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা) জুয়েল মিয়া বলেন, বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তায় কাজ করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রামে জলবন্দি পাঁচ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বেড়ে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে তিস্তার পানি প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হওয়ায় আশঙ্কায় রয়েছে দুই পাড়ের মানুষজন। জেলার রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার তিস্তার অববাহিকার ফসলি জমিতে পানিতে তলিয়ে গেছে, নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে উঠতে শুরু করেছে পানি। চরাঞ্চলের কিছু পরিবার বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্রে অবস্থান করছে। জলবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ। 

সরিষাবাড়ি এলাকার বদরুল আলম বলেন, গত বুধবার থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। যা সাধারণ মানুষের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, তিস্তায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় নদীর অববাহিকায় মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় তিস্তা তীরবর্তী রাজাহাট এবং উলিপুর উপজেলায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। দুই উপজেলায় ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৪ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবারসহ সার্বিক প্রস্তুতি আছে।

নীলফামারীতে কমছে আতঙ্ক

ভারতের উত্তর সিকিমে প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করলেও বর্তমানে তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত দু’দিন আতঙ্কে কাটানোর পর গতকাল রাত থেকে পানি কমতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে তিস্তা পাড়ে।

তিস্তার তীরবর্তী উত্তরের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কায় কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।


গতকাল সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৮৫ হাজার কিউসেক।পানি প্রবাহিত হচ্ছিল বিপদসীমার ৫১.৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে। বিকাল ৫টায় তা প্রবাহিত হয় ৫১.৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে। এর আগে গত বুধবার সকাল থেকে পানি বাড়তে শুরু করলে বিকাল ৪টায় তিস্তার পানি ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে ০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিকেল ৫টায় তা বেড়ে ১০ সেন্টিমিটার ও সন্ধ্যা ৬টায় ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ৭টা ও ৮টায় পানি বেড়ে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও রাত ৯টায় পানি কমে বিপদসীমার ০৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর রাত ১০টা থেকে তিস্তার পানিপ্রবাহ আরও কমতে শুরু করেছে। তবে পাউবো জানিয়েছে, ডালিয়া পয়েন্টের পানি সমতল। আগামী ৬ ঘণ্টা ধরে কমার পর আবার বাড়তে পারে।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, গত বুধবার সকাল থেকে সারাদিন তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। এতে অনেক আতঙ্কে ছিলাম। তবে রাতে তা কমে যাওয়ায় বিপদ কেটে গেছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনও করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে। এতে আশঙ্কাও কমে এসেছে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তলিয়ে গেছে ফসল 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে রোপা আমন, মাসকলাই ও শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টানা বর্ষণে জেলায় ৩ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে টানা বৃষ্টিতে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ১৪ হাজার ৩৪২ জন কৃষক। এদের মধ্যে ৮ হাজার ৯১৪ জন কৃষকের ২ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমির মাষকলাই, ৪ হাজার ৭৮৯ কৃষকের ৩৩০ হেক্টর জমির শাকসবজি, ১১৫ জন কৃষকের ১১ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, ৬০ জন কৃষকের ৫ হেক্টর জমির পেঁয়াজের বীজতলা, ৭৫ জন কৃষকের ২৫ হেক্টর নাবী পাট বীজ, ২৫ জন কৃষকের ৫ হেক্টর তিল ও ৩৬৪ জন কৃষকের ৯১ হেক্টর রোপা আমন ধান ডুবে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জেলার সবকটি উপজেলার কৃষকের ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার শাজাহানপুর, নারায়ণপুর, চরবাগডাঙ্গা, ইসলামপুর, আলাতুলি, শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, মনাকষা, দাইপুকুরিয়া, শাহাবাজপুর এলাকার জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া গোমস্তাপুরের ৯টি, নাচোলের ৪টি এবং ভোলাহাট উপজেলার ৩টি এলাকার কৃষকদের রোপণ করা ফসল পানিতে তলিয়ে আছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার চাষি সাইদুর রহমান জানান, বাড়ির পাশেই স্বপ্নের সোনার ধান অথৈ পানির নিচে। অতি কষ্টে লাগানো প্রায় ৩ বিঘা জমির আমন ধান ডুবে গেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। ধান নিয়ে অনেক আশা ছিল কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পানির নিচে।

রংপুরে ১০ হেক্টর জমির আমনের ক্ষতি

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে বৃদ্ধি পাওয়া তিস্তা নদীর পানি কমে গেছে। বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে তিস্তার ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টের পানি। গত বুধবার দিবাগত রাত থেকে ক্রমান্বয়ে কমছে তিস্তা নদীর পানি। এদিকে তিস্তায় রেকর্ড পরিমাণ পানি বৃদ্ধি ও বন্যার শঙ্কায় রাতে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষেরা গতকাল ঘরে ফিরে গেছেন। তিস্তার তীব্র স্রোতে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পশ্চিম ইচলী গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক বাঁধের আড়াইশ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। এতে করে পশ্চিম ইচলীর আবুল কালাম (৪০), রাজ্জাক (৪২), আব্দুর রহমানের (৪৫) বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ১০ হেক্টর আমনের ক্ষেত। হুমকির মুখে রয়েছে ২টি মন্দির, একটি ঈদগাহ মাঠ ও ৪০ থেকে ৫০টি ঘরবাড়ি। 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টায় তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার নদীর পানি সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে। গত ২৪ ঘন্টা বৃদ্ধি পাওয়া তিস্তা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘন্টা স্থিতিশীল থাকবে। 

গঙ্গাচড়া লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিনবিনা থেকে চর শংকরদহ পর্যন্ত একটি বাঁধের দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু পাউবো আশ্বাস দিয়েও এ কাজ করেনি। পরে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি বালুর বাঁধ দিয়ে কয়েক বছর চরবাসী ও ফসলি জমিকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা হয়। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিস্তার তীব্র স্রোতে সেই বাঁধ ভেঙে যায়। এতে করে এলাকার ৩টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়। নষ্ট হয় একরের পর একর আমনের ক্ষেত। হুমকির মুখে রয়েছে দুটি মন্দিরও। 

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না বলেন, পশ্চিম ইচলীকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য পাউবোকে জানানো হয়েছে। পানি কমে এলে তারা সেখানে কাজ শুরু করবে। এ ছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার এমপি মহোদয়ের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বন্যা-ভাঙন থেকে উপজেলার মানুষকে রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমার আভাস

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, শুক্রবার (আজ) দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমতে পারে। এতে করে সেখানে যে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা কিছুটা কমবে। তা ছাড়া ভারতের এ অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত কমতে পারে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সিকিম পরিস্থিতি

এদিকে ভারতের সিকিম রাজ্যে অতিবৃষ্টির জেরে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৪ জন বেসামরিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ২২ সেনাসদস্যসহ অন্তত ১০২ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। এ বিপর্যয়কে একটি দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে সিকিম সরকার।

রাজ্যে অতিবৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যায় সিকিমে ১৪টি সেতু ভেঙে গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে তিন হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন রংপুর প্রতিনিধি মেরিনা লাভলী, গাইবান্ধার রিপন আকন্দ, কুড়িগ্রামের রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, নীলফারীর সাকির হোসেন বাদল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেহেদী হাসান শিয়াম)

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা