কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:৫৪ পিএম
চারণকবি রাধাপদ। প্রবা ফটো
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে হামলার শিকার চারণকবি রাধাপদ রায়ের শারীরিক অবস্থা কিছুটা পরিবর্তন হলেও তার বুকে ও কোমরে এখনও ব্যথা রয়েছে। সে কারণে তাকে অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। গত দুদিনের তুলনায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা বলছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।
রাধাপদ রায় নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের গোদ্ধারেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। ৩০ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকাতেই তার ওপর হামলা চালায় একই এলাকার দুই ভাই রফিকুল ইসলাম ও কদুর আলী। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কবির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে এবং কোমরে লাথি মারে। গুরুতর আহত হলে কবিকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
রাধাপদ রায়ের ছেলে জুগল রায় বলেন, ‘বাবার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় একটু ভালো। ইনজেকশন পরিবর্তন করে নতুন ইনজেকশন পুশ করার পর তার শারীরিক অবস্থা একটু উন্নতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।’
কবি রাধাপদ রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বুকে ও শরীরে এখনও প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে। নিজ শক্তিতে হাঁটতে পারছি না। তাই অন্যের কাঁধে ভর করে চলাফেরা করতে হচ্ছে। ওষুধ কিংবা মলম দিয়ে হয়তো শরীরের ব্যথা যাবে, কিন্তু মনের ব্যথা চিরদিন রয়ে যাবে। আমি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি কবিকে সুস্থ করে তুলতে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখা যাচ্ছে। কোমরে এখনও ব্যথা রয়েছে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
কবির ওপর হামলায় অভিযুক্ত অপর আসামি কদুর আলীকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এরই মধ্যে রফিকুল ইসলামকে শহরের জিরো পয়েন্টে শাপলা চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মূল আসামি রফিকুল ইমলামকে গ্রেপ্তার করেছি। তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’