× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মুখ থুবড়ে পড়েছে আন্তঃউপজেলা সড়ক যোগাযোগ

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:১৬ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ-বিন্নাটি সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন না করায় ইট-বালু-সুরকি উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় অসংখ্য গর্ত। দুর্ভোগ বেড়েছে পথচারীদের। প্রবা ফটো

দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ-বিন্নাটি সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন না করায় ইট-বালু-সুরকি উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় অসংখ্য গর্ত। দুর্ভোগ বেড়েছে পথচারীদের। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে অনন্ত ৫টি উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। উপজেলা থেকে শহরে প্রবেশ করার প্রধান সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বর্তমানে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সড়কগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন না করায় এখন সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাকুন্দিয়া উপজেলা থেকে জেলা শহরে ঢুকতে বিন্নাটির চৌরাস্তার মোড় হয়ে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু সড়কটি কমপক্ষে ১০টি স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয় পথচারীদের। এমনকি যানবাহনে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কারণে বয়স্করা যানবাহন থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। 

সড়কটিতে প্রতিদিন যাতায়াত করা শফিকুল ইসলাম নামে একজন উদ্যোক্তা জানান, কয়েক দিন যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে তার কোমরে ব্যথা হওয়ায় তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন পর্যন্ত হতে হয়েছে। 

অপরদিকে হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দাদের নতুন জেলখানার মোড় থেকে হয়বতনগর ও নগুয়া হয়ে জেলা সদরে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু হয়বতনগর ও নগুয়া সড়কের অবস্থা দেখলে বৃদ্ধ ও শিশুরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সড়কে প্রতিদিন চলাচলকারী স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের সভাপতি ডা. দীন মোহাম্মদ জানান, আমার ৬০ বছর জীবনে শহরের প্রবেশ পথের এমন ভয়াবহ ভাঙন ও বিধ্বস্ত সড়ক এর আগে কখনও দেখিনি। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন এসব আন্তঃ উপজেলা সড়ক দিয়ে কয়েক লাখ লোক চলাচল করে আসছে। প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

হাওর উপজেলা নিকলী থেকে কর্ষাকড়িয়াইল-গচিহাটা-সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ সড়ক হয়ে শহরে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু সড়কটি অত্যন্ত অপ্রশস্ত হওয়ায় এবং সিংহভাগ ভেঙে যাওয়ায় কোনো যানই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। লোকজন বাধ্য হয়ে নিকলী এবং মেডিকেল কলেজে যেতে হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথ অতিক্রম করে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, এই পথে মেডিকেলে আসা-যাওয়া এবং নিকলী উপজেলায় যেতে লোকজনকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। শিশু ও বৃদ্ধরা এই পথে চলাচল করতে পারে না।

তাড়াইল উপজেলা থেকে নীলগঞ্জ-শোলমারা ব্রিজ সড়ক হয়ে শহরে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু পৌরসভার পাঁচ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে পানিতে তলিয়ে থাকায় এবং ইট-বালু-সুরকি উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে অন্য উপজেলার মতো একই ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাড়াইলবাসীদেরও। 

করিমগঞ্জ উপজেলা থেকে শহরে প্রবেশ করতে হলে চামড়াঘাট সড়ক-জেলা পরিষদ ও একরামপুর হয়ে আসতে হয়। কিন্তু জেলা পরিষদের পর তিন কিলোমিটার সড়কের অবস্থা নাজুক হওয়ায় মানুষ দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই হাওর ও করিমগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। 

কিশোরগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সড়কগুলোর যে অংশ স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে রয়েছে, তা তিনি তিন মাসের মধ্যে সচল করার ব্যবস্থা নেবেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া জানান, কিশোরগঞ্জ-নিকলী উপজেলার সড়কটির (মেডিকেল কলেজসহ) জন্য ৭২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা রয়েছে। অর্থ ছাড় পেলে আমরা কাজটি করতে পারব বলে আশা করি। তার অধীনে করিমগঞ্জ সড়কের তিন কিলোমিটারের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জ পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, পৌরসভার আর্থিক সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা প্রতিনিয়ত তহবিল সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করি আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে অনেকগুলো কাজে হাত দিতে পারব। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা