লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:৩৬ পিএম
সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন সুমন। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুর সদরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মামলায় ইউপি সদস্যকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদেণ্ডর আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক তারেক আজিজ এ রায় দেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ইউপি সদস্যের নাম- জাকির হোসেন সুমন। তিনি উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের বাসিন্দা।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২ এর পেশকার জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম আদালতে সুমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। এ মামলায় স্বপ্না বেগম ও পারভেজ হোসেন নামে দুইজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন জানান, আসামি সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আপিল শর্তে আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে মানিক ও স্বপ্নার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। মানিক অধিকাংশ সময় কর্মস্থল ঢাকায় থাকতেন। সেই সুযোগে ইউপি সদস্য সুমন ও স্বপ্না ম্যাসেঞ্জার ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলতো। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে মানিক ঢাকা থেকে এসে স্ত্রীকে ঘটনাটি নিয়ে বকাঝকা করে। এগুলো বন্ধ করতেও বলেন তিনি। গত বছরের ২৩ মার্চ মানিকের ছোট ভাই ব্যবসায়ী রাসেল দোকানের মালামালে কেনার জন্য ঘরের আলমারিতে ছয় লাখ টাকা রাখেন। পরদিন স্বপ্না ওই টাকা এবং বিভিন্ন সময় স্বামীর দেওয়া তিন ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে সুমনের সঙ্গে পালিয়ে যান। এতে পারভেজ তাদেরকে সহযোগীতা করেন। এ ঘটনা ওই বছরের ৬ এপ্রিল মানিক বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্ত্রী স্বপ্না ও ইউপি সদস্য সুমনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রুবেল পাটওয়ারী বলেন, রায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। সুমনও বিষয়টি আমাকে জানায়নি।