× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন

৪৭ কিমি পুরোনো রেলপথে ‘অপচয়’ হবে ৩০ মিনিট

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ০০:১৫ এএম

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ১১:২৫ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বহুল আলোচিত ১৪৮ কিলোমিটারের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের উদ্বোধন আর কয়েক দিনের মধ্যেই। চালু হলেই মাত্র আড়াই ঘণ্টায় স্বপ্নের ট্রেন যাবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের নগরী কক্সবাজারে। তবে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজার রেলস্টেশন পর্যন্ত মোট ১৪৮ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ৪৭ কিলোমিটার পুরোনো মিটারগেজ রেললাইন হওয়ায় ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগবে। 

সময়ের এই অপচয়ের কারণ হিসেবে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ১৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে নবনির্মিত দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ (ট্র্যাক) রেললাইনে ট্রেন চলবে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে। আর চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার পুরোনো মিটারগেজ রেললাইনে ট্রেন চলবে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার গতিতে। তাই চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যেতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ মিনিট সময় বেশি লাগবে। এ ছাড়া জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু তো আছেই।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার নবনির্মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন রেল সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির। তিনি কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর নবনির্মিত রেলট্র্যাকে গ্যাংকার যোগে কক্সবাজার থেকে ৫০ কিলোমিটার রেললাইন পর্যবেক্ষণ করে চকরিয়ার হারবাং স্টেশনে পৌঁছান। সেখানেও কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি সারা দেশের জনগণের একটা স্বপ্নের প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ একদম শেষ পর্যায়ে। আগামী ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনে ট্রেন পরীক্ষামূলক চালু করা হবে। আশা করছি, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বা ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তবে উদ্বোধন করলেও এখনই সরাসরি ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন চলাচল শুরু হবে না। প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে। নভেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।’

প্রকল্পটির সর্বশেষ অগ্রগতি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯২ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেললাইনের মধ্যে সামান্য রেললাইন বসানোর কাজ শেষ হলেই নবনির্মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চালু করা হবে। আশা করি ১৭ বা ১৮ অক্টোবর প্রথম পরীক্ষণ করা হবে। পরীক্ষামূলক চালুর জন্য এরই মধ্যে কোরিয়া থেকে আনা ছয়টি বগিসহ একটি লোকোমোটিভ পটিয়া স্টেশনে রাখা হয়েছে।

বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলে ট্রেনের গতিবেগ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মো. সুবক্তগীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মোট ১৪৮ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার অংশে পুরোনো রেলপথ। আর দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নবনির্মিত ১০১ কিলোমিটার অংশ ডুয়েলগেজ ট্রাক। এই ১০১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথে শুরুতে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে চলবে। পরে গতিবেগ আস্তে আস্তে বাড়ানো হবে। আর চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার সেকশন যেহেতু মিটারগেজ; তাই সেখানে ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার গতিবেগে ট্রেনে চলাচল করবে। এ ছাড়া জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু তো আছেই। সব মিলিয়ে এই ৪৭ কিলোমিটার অংশে গতিবেগ কম থাকবে। এখন চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অংশের ১৪৮ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র আড়াই ঘণ্টা। ৪৭ কিলোমিটার মিটারগেজ অংশ যদি ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করা হয় সেক্ষেত্রে আরও ৩০ মিনিটের বেশি সময় কমবে।

এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী অংশ পর্যন্ত এখনও মিটারগেজ রেলপথ এবং কালুরঘাট সেতুটি জরাজীর্ণ। সেক্ষেত্রে কক্সবাজার ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে ঘণ্টায় গতিবেগ থাকবে ৬৫ কিলোমিটার। তবে এই অংশটি ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হলে গতিবেগ ১০০ কিলোমিটার হবে। সেক্ষেত্রে কক্সবাজার যেতে আড়াই ঘণ্টা নয়, দুই ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেন পৌঁছবে। 

প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকল্পটি উদ্বোধন করার বিষয়টি সামনে রেখে জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতুর সংস্কারকাজ চলছে। আশা করি এই মাসের মধ্যেই সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার অংশটি ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করতে একটি ডিপিপি প্ল্যানিং কমিশনে জমা রয়েছে। সেটির অনুমোদন সময়ের অপেক্ষা।’

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দোহাজারী থেকে চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, রামু হয়ে বন, পাহাড় বেয়ে এবং নদীর ওপর দিয়ে এই রেলপথটির নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের নথির তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালের ৬ জুলাই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেগা প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মেগা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে অর্থায়ন-সংক্রান্ত জটিলতায় বেশ কিছুদিন প্রকল্পটি থমকে থাকার পর ২০১৫ সালে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দোহাজারী-চকরিয়া এবং চকরিয়া-কক্সবাজার (লট-১ ও লট-২) এই দুই লটে চীনা প্রতিষ্ঠান সিআরসি (চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন) ও দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন্স কোম্পানি ২ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা এবং চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিইসসিসি ও দেশীয় ম্যাক্স কনস্ট্রাকশন্স ৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকায় যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বর লটের কাজ পায়। পরবর্তী সময়ে ঠিকাদার নিয়োগের পর ২০১৭ সালে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা