প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ২২:২৫ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ২২:৩৫ পিএম
হাসপাতালে আহত চারণকবি রাধাপদ রায়। ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে চারণকবি রাধাপদ রায়ের ওপর হামলা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সকালে হওয়া ওই হামলার ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
রাধাপদ রায়ের ওপর হামলার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে যৌথবিবৃতি দিয়েছেন বিভিন্ন পেশার ২১ নাগরিক। বিবৃতিদাতারা রাধাপদকে দ্রুত ঢাকায় এনে সরকারি খরচে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া কবির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত রাধাপদ রায় বেশিদূর পড়ালেখা না করলেও লেখালেখিকেই বেছে নিয়েছেন জীবনের অবলম্বন হিসেবে। মানুষকে স্বরচিত গান-কবিতা শুনিয়ে সামান্য যা উপার্জন করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। আঞ্চলিক ভাষায় লেখা রাধাপদের গান ও কবিতা বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ‘কেয়ামতের নমুনা, জানি কিন্তু মানি না’ শিরোনামের একটি কবিতা ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, রাধাপদ রায় নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের গোদ্ধারের পাড় গ্রামের বাসিন্দা। গত শনিবার নিজ এলাকাতেই তার ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় রাধাপদ রায়ের ছেলে জুগল রায় নাগেশ্বরী থানায় রফিকুল ইসলাম ও কদুর আলী নামে দুই ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্তরা ভিতরবন্দ ইউনিয়নের কচুয়ারপাড় এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় একমাস আগে স্থানীয় একটি সালিশে আসামিদের সঙ্গে রাধাপদ রায়ের কথা কাটাকাটি হয়। তারই জেরে গত শনিবার পরিকল্পিতভাবে পথরোধ করে তার ওপর আক্রমণ চালান রফিকুল ইসলাম ও কদুর আলী। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কবির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
রাধাপদ সরকারের ছেলে জুগল রায় বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার বাবার ওপর হামলা চালায় রফিকুল ইসলাম ও কদুর আলী। আমার বৃদ্ধ বাবাকে তারা যেভাবে মেরেছে, তা বলে শেষ করতে পারবো না।’
২১ নাগরিকের বিবৃতি
রাধাপদ রায়ের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও জড়িতদের বিচার চেয়ে সোমবার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার তিন দিনেও রাধাপদ রায়ের ওপর প্রকাশ্যে পৈশাচিক হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা অথবা গ্রেপ্তার করতে না পারা স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায়ভার সংশ্লিষ্ট থানার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এড়াতে পারে না। তার মতো অশীতিপর এক বৃদ্ধের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা দেওয়ার সামিল।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট শিশুসংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুর রহমান সেলিম, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিতরঞ্জন দে, গ্রিন ক্লাব অব বাংলাদেশের (জিসিবি) কার্যকরী সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, নৌ-সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে প্রমুখ।