আশুলিয়ায় তিন খুন
সাভার ও আশুলিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:৩৮ পিএম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৩ ১৯:২৫ পিএম
আশুলিয়ার ফকিরবাড়ী মোড় এলাকার এই বাড়িতে হত্যার শিকার হয়েছেন এক পরিবারের তিনজন। প্রবা ফটো
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় সন্তানসহ বাবা-মাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা হয়েছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি শাখা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু মেলেনি।পুলিশ বলছে, দ্রুত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করা হবে। ঘটনার পর থেকে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
রবিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়। এর আগে শনিবার রাতে থানার ইউনিক ফকিরবাড়ী মোড় এলাকার মেহেদী হাসানের মালিকানাধীন বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার লোহাগড়া গ্রামের মুক্তারুল হোসেন বাবুল ওরফে বাবুল হোসেন, তার স্ত্রী সহিদা বেগম ও তাদের ছেলে মেহেদী হাসান জয়। সহিদার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আশুলিয়ায় আলাদা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জোহাব আলী বলেন, ’নিহত বাবুল হোসেনের ভাই আয়নাল হক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তবে এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।’ কী কারণে এই হত্যা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাবুল ও সাহিদা পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন। এ দম্পতির ১২ বছরের ছেলে জয় আশুলিয়ার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। একসময় গ্রামে কৃষিকাজ করতেন বাবুল। এক যুগেরও বেশি সময় আগে তিনি রুটি-রুজির তাগিদে ঢাকায় চলে আসেন।
এক পরিবারের তিন সদস্যকেই হত্যার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রাতেই ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় দ্রুত ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনার কথা জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার। এ ছাড়া গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব ও সিআইডির সদস্যরাও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপপরিদর্শক বলেন, ‘পরিকল্পিত হত্যা মনে হচ্ছে। রান্নাঘরে বরফ জমানো মাংস পানিতে ভেজানো ছিল। এ ছাড়া চা খাওয়ানো হয়েছে এমন পাঁচটি চায়ের কাপও তারা পেয়েছেন। এই আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা সবাই পূর্বপরিচিত ছিলেন। হত্যার আগে তাদের খাবারে চেতনানাশক মেশানো হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে পরিষ্কার হওয়া যাবে।’
নিহত বাবুলের বড় বোন মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ভাই জীবনে অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। দুর্বল থেকে সবল হলো। তাদের এভাবে মেরে ফেলল। আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। থাকলে তো কখনও আমাদের একটু হলেও বলত। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।’
প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না বাবুলের পরিবারের। যদিও একই বাসায় দীর্ঘ আট বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তারা।
প্রতিবেশী মামুন মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা সবাই একটি পোশাক কারখানায় কাজ করি। রাতে বাসায় এসে ঘুমিয়ে যাই। তাদের সঙ্গে আমাদের তেমন যোগাযোগ ও দেখা সাক্ষাৎ হতো না। পুলিশ আসার পর জানতে পারলাম, তাদের কে যেন মেরে ফেলেছে। এ ঘটনার পর থেকে আমরা সবাই আতঙ্কিত। ঘরে একা সন্তানকে রেখে কাজে যাওয়াটা নিরাপদ মনে হচ্ছে না।’
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জোহাব আলী জানান, মরদেহ তিনটি রাতেই রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।