লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৩ ১৬:১৩ পিএম
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুটিবিলার সুলতান শাহ পাহাড়। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পুটিবিলার সুলতান শাহ পাহাড়। ডাম্পার গাড়ির মাধ্যমে গ্রামীণ কাঁচা সড়ক দিয়ে সেই মাটি নেওয়া হচ্ছে দূরদূরান্তে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি বেড়েছে স্থানীয়দের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিদারুল আলম নামে এক ব্যক্তি পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন। তিনি পুটিবিলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু পাহাড়টির পশ্চিম অংশের ৮ শতক জায়গার মাটি কেটে ইতোমধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। স্ক্যাভেটরের সাহায্যে পাহাড়টির মাটি কাটা হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত ডাম্প ট্রাকের সাহায্যে মাটি পরিবহনের ফলে সুলতান শাহ্ সড়কটির অন্তত ৩০০ মিটার কর্দমাক্ত হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, রিকশা ও সাইকেল চলাচল করাও অসম্ভব। সড়কটি ব্যবহার করে নতুন পাড়া ও এর আশপাশের এলাকার মানুষ। বর্তমানে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, তিন সপ্তাহ আগে পাহাড়টির মাটি কাটা শুরু করেন দিদারুল। সড়কটি মাটির হওয়ায় মাত্রাতিরিক্ত ডাম্পার ট্রাক চলাচলের ফলে সড়কটির অবস্থা বেহাল। এর মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় অবস্থা আরও করুণ হয়েছে। ফলে মাটি কাটা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা বলছেন, সড়কটি যান চলাচলের উপযুক্ত হলে পুনরায় মাটি কাটা শুরু করবেন দিদারুল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, সুলতান শাহ্ একজন দরবেশ ছিলেন। পাকিস্তান শাসনামলে তিনি চট্টগ্রাম শহর থেকে লোহাগাড়ায় আসেন। পাহাড়টির ওপরে তার একটি আস্তানা আছে। সেখানে তিনি জিকির ও ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। সেখানে বার্ষিক ওরশ হতো। পরে সরকার তাকে পাহাড়টির বন্দোবস্ত দেয়। ধীরে ধীরে পাহাড়টি সুলতান শাহ পাহাড় নামে পরিচিতি পায়। আনুমানিক ১৯৭২ সালের দিকে সুলতান শাহের মৃত্যু হয়। তার সন্তানদের থেকে স্থানীয় দিদারুল আলমসহ একাধিক ব্যক্তি পাহাড়টির মালিকানা কিনে নেন। বর্তমানে পাহাড়টির ওপরে সুলতান শাহের আস্তানা এবং পাহাড়টির পূর্বপাশের পাদদেশে সুলতান শাহের নামে একটি মসজিদ রয়েছে।
পাহাড় কাটার দায় অস্বীকার করে দিদারুল আলম বলেন, আমি এ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত না। আমার ব্যাপারে মিথ্যা অভিযোগ উঠেছে। মূলত আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এক মাস আগে সুলতান শাহ সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। অতিরিক্ত মাটি পরিবহনের ফলে বর্তমানে সুলতান সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। আমি এক সপ্তাহ আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।’
ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বলেন, একদিকে পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ ব্যাপক বিপর্যয় হচ্ছে এবং অন্যদিকে মাটি পরিবহনের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা আমাকে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমি দেখছি। পাহাড় কাটায় জড়িত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনকে এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
উপজেলার বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মী সানজিদা রহমান বলেন, এ অঞ্চলের পাহাড় রক্ষা করা বর্তমানে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড় কাটা বন্ধে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ উল্যাহ বলেন, ‘সুলতান শাহ্ পাহাড়টি কাটার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’