আউলিয়া ঘাট সেতু
পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৩ ১২:৫৩ পিএম
পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে নৌকা দিয়ে পারাপার হচ্ছে যাত্রীসাধারণ। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কেটে গেছে দুই দশক। এরপরও শুরু হয়নি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে সেতুর নির্মাণকাজ। ফলে ভোগান্তি থেকেই গেছে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। সেতুর অভাবে গত বছর ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপরও পেরিয়ে গেছে এক বছর।
উপজেলার মাড়েয়া-বামনহাট ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে স্থানীয়দের সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর এই ঘাটে নৌকা ডুবে ৭২ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর বদলে গেছেন ঘাটের ইজারাদার। পাল্টেছে পুরোনো নৌকা। তবে ঘাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি। নৌকাডুবির পর জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চার মাসের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তবে এক বছর পার হলেও সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্কুল শিক্ষক দিপেন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট পারাপার হই। নদী পার হয়ে বড়শশীর একটি স্কুলে চাকরি করছি। কয়েকদিন পরে অবসরেও যাব। সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এখানে সেতু নির্মাণ করা হবে। ৪০টি বছর পার করলাম, আজও সেতু হয়নি।’
এদিকে সেতু না থাকায় নৌকাযোগে নদী পার হতে গিয়ে বিদ্যালয়মুখী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নদী পার হতে অতিরিক্ত সময় চলে যায়। এতে যথাসময়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারা যায় না। ফলে পড়াশোনা ব্যাহত হয়।
মাড়েয়া মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আর্জিনা আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিনই নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় নদী পার হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত লোক না থাকায় মাঝি নদী পার করেন না, তখন ক্লাস মিস করি। একটা সেতু হলে আমাদের কষ্ট লাঘব হতো।’
স্থানীয় কৃষক আব্বাস আলী বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বাদাম, ভুট্টা, ধানসহ নানা শাকসবজি প্রচুর উৎপাদিত হয়। সেতুর অভাবে কৃষিজপণ্য ঠিকমতো মাড়েয়া বাজারে নিতে পারি না। অনেক সময় দেরিতে গেলে বাজার শেষ হয়ে যায়, তখন কম দামে পণ্য বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না। আউলিয়ার ঘাটে সেতু হলে খুবই উপকৃত হব।’
ঘাট ইজারাদার আব্দুর রাজ্জাক জানান, সেতু না হওয়ায় আসন্ন মহালয়াকে কেন্দ্র করে মানুষের চাপ সামাল দিতে আউলিয়ার ঘাটে সাঁকো নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে নদী পারাপার হওয়া মানুষের জন্য নৌকায় রাখা হয়েছে লাইফ জ্যাকেট, টিউবসহ নানা নিরাপত্তা সরঞ্জাম।
নৌকাডুবির ঘটনায় বদেশ্বরী মন্দিরের এক পাশেই নিহতদের স্মরণে স্মৃতি মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে সেতু নির্মিত না হওয়ায় চলতি বছর মহালয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাইকিং, পোস্টারিং ও সভা করে আমন্ত্রণ করা হবে না বলে জানান মন্দির কমিটির সভাপতি মুকুল বকশী। তিনি বলেন, ‘এবার অনাড়ম্বরভাবে মহালয়া পালন করব। যেহেতু আউলিয়ার ঘাটে সেতু হয়নি, তাই বড় আয়োজন করব না। যদি কেউ বদেশ্বরীতে আসতে চান, তাহলে তারা দেবীগঞ্জ ঘুরে আসবেনÑ এমনটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
গত বছর নৌকাডুবিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে আউলিয়ার ঘাটে ওয়াই আকৃতির সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এর কিছুদিন পরে শুরু হয় মাপজোখসহ সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। তবে নকশার কিছুটা পরিবর্তন এনে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৯১ মিটার লম্বা দুই লেনের ওয়াই এঙ্গেলের পিসি গার্ডার সেতুর পরিকল্পনা নিয়ে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এরপরও শুরু হয়নি নির্মাণ কাজ। তবে আশার বাণী শোনালেন পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান। তিনি বলেন, ‘সেতুর কাজ শুরু করতে টেন্ডারসহ যাবতীয় কাজ শেষ। চলতি মাসে সেতুর কাজ শুরু করতে পারব।’
রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আউলিয়ার ঘাটে সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ব্যয়সংক্রান্ত কমিটিতে অনুমোদন হলেই সেতুর কাজ শুরু হবে।’