× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাড়তি টাকা ছাড়া মেলে না দলিল

গাজীপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৪১ এএম

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:২৫ পিএম

বাড়তি টাকা ছাড়া মেলে না দলিল। প্রবা ফটো

বাড়তি টাকা ছাড়া মেলে না দলিল। প্রবা ফটো

গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল তুলতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ৫ গুণ পর্যন্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। সম্প্রতি ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দাবিবিহীন দলিলগুলো বিনষ্ট করা হবেÑ এমন ঘোষণার প্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রার অফিসে ভিড় জমায় মানুষ। আর এই সুযোগে অনেকটা জিম্মি করে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন একাধিক ভুক্তভোগী। পুরো ঘটনায় অফিসের লোকজনের পাশাপাশি একটি দালাল চক্রও জড়িত রয়েছে বলে জানান তারা। এ ছাড়াও এসব দলিল উত্তোলন বাবদ নেওয়া টাকার জন্য কোনো ধরনের রসিদও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। 

গত ৫ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পুরোনো রেকর্ডপত্র বিনষ্টকরণ প্রসঙ্গে একটি নোটিস দেন। সেখানে উল্লেখ করেন, উল্লিখিত বছরগুলোতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সমাপ্তকৃত (নকল ও সূচিকাজ সমাপ্তকৃত) দাবিবিহীন দলিলগুলো বিনষ্ট করা হবে। এমতাবস্থায় নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে উত্তোলন করার জন্য অনুরোধ করা হলো। 

ওই নোটিস জারির পর থেকে দলিলের মালিকরা সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এসে ভিড় করছেন। তারা প্রথমে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় প্রাপ্ত রসিদ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তের নিকট জমা দেন এবং এর ১-২ দিন পর অর্থের বিনিময়ে দলিল সংগ্রহ করছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি দলিল নেওয়ার সরকারি ফি প্রকারভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে দলিল ওঠাতে খরচ হচ্ছে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এসব টাকা নিচ্ছেন সাব-রেজিস্ট্রারের নিয়োগকৃত লোক ছাড়াও বহিরাগত একটি দালাল চক্র। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। 

সরেজমিন মহানগরীর মেট্রো সদর থানা রোডে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দেখা যায়, শত শত লোক ভিড় করছেন দলিলের জন্য। কেউ টাকার বিনিময়ে দলিল নিচ্ছেন, কেউ রসিদ জমা দিয়ে চলে যাচ্ছেন। কেউবা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে করছে দর-কষাকষি। নকলনবিশ কবির হোসেনের টেবিলে গিয়ে দেখা যায় জয়দেবপুরের মনির নামে একজনের সঙ্গে টাকা লেনদেন চলছে। তার মতো এমনভাবে বেশ কয়েকজন নকলনবিশ নির্ধারিত ফির বাইরে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। 

মনির হোসেন ও একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, একটি দলিল নিতে সরকারি ফি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কিন্তু তারা শত শত লোকজনকে জিম্মি করে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা নিচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে দিচ্ছে না দলিল। তার ওপর এজন্য কোনো ধরনের রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে নকলনবিশ কবির হোসেন বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত ফি নিচ্ছি, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে না। কাজের চাপে রসিদ দেওয়া হচ্ছে না, পরে এলে রসিদ নিতে পারবে। 

জানতে চাইলে সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মারিয়ালি এলাকায় স্থানান্তর হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সে শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে স্থানান্তর হচ্ছে দুটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় ও মহাফেজখানা (রেকর্ডরুম)। এটি প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা