× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এটিও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ভোলা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৩ এএম

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০:৫৬ এএম

বৃষ্টির মধ্যে টিনের ছাউনির নিচে চলছে পাঠদান। ভোলার দৌলতখানের পশ্চিম-দক্ষিণ-মধ্য কলাকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবা ফটো

বৃষ্টির মধ্যে টিনের ছাউনির নিচে চলছে পাঠদান। ভোলার দৌলতখানের পশ্চিম-দক্ষিণ-মধ্য কলাকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবা ফটো

এটিও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালবাড়ির উঠানে টিনের ছাউনির নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। আটটি বেঞ্চ আর ২৫ জন শিক্ষার্থী। মেঝেতে কাদাপানি। কোনো রকম দেয়াল-বেড়া আর দরজা-জানালাহীন এই ছাউনি দেখে আর যাই হোক বিদ্যালয় মনে হবে না কারও কাছে। তবে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি সত্যিই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার নাম পশ্চিম-দক্ষিণ-মধ্য কলাকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়ে এ রকম নাজুক পরিবেশে রোদ, ঝড় ও বৃষ্টিতে চলে পাঠদান। বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনের ঘরটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় পাঁচ মাস ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তবে এ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। 

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান জানান, ২০০৬ সালে বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হলেও ২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনের ঘরটি ভেঙে যায়। এর পর থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশের এক ব্যক্তির বাড়ির উঠানে একটি খোলা টিনের ছাউনির নিচে পাঠদান করা হয়। 

তিনি আরও জানান, তাদের স্কুলের জন্য পাকা একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেটি নির্মানের কাজ শেষ হতে দেড় থেকে দুই বছর লাগতে পারে। তার আগে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত স্কুলটির টিনের ঘরটি মেরামত জরুরি। যার জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এরই মধ্যে আবেদনও করেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকা চায়না রানী ও তাসনুর বেগম জানান, স্কুলের ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে ঠিকমতো ক্লাস না হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। ১১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে ২০ থেকে ২৫ জন। এখন ছাত্রছাত্রীরা আসতে চায় না, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেকে আনতে হয় ।

সরেজমিনে গেলে স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুফনা আক্তার, সানজিদা এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ামিন জানায়, আকস্মিক ঝড়ে তাদের বিদ্যালয়ের টিনের ঘর ভেঙে গেছে। এতে করে পাঁচ মাস ধরে তারা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না। কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি। কয়েকদিন বৃষ্টি হলে বেঞ্চের নিচে পানি ও কাদা জমে যায়। খুব বেশি বৃষ্টি হলে ক্লাস ছেড়ে মানুষের বাড়িতে দৌড়ে আশ্রয় নিতে হয়। এসব কারণে তাদের বাবা-মায়েরা স্কুলে আসতে দিতে চায় না। আবার অনেক শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। এতে করে দিন দিন তাদের সহপাঠীদের সংখ্যা কমছে বলেও জানায় তারা ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আজিজুল ফরাজী ও সিরাজুল ইসলাম জানান, এখানে স্কুল চলার মতো কোনো পরিবেশ নেই। তাদের ছেলেমেয়েরা এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আসতে চায় না। এতে করে সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুরোনো স্কুলটি মেরামত করা হলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত) জানান, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত পাকা ভবন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পুরোনো স্কুলটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ের পাঠদান বিঘ্ন হচ্ছে। তাই সেখানে অস্থায়ী ঘর নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অতিসত্বর অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা