× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাগরতীরে মানবস্রোত, ঠাঁইহীন সাজেক

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:১৫ পিএম

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৭ এএম

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব ঘিরে কক্সবাজারের সাগরতীরে মানুষের স্রোত। প্রবা ফটো

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব ঘিরে কক্সবাজারের সাগরতীরে মানুষের স্রোত। প্রবা ফটো

টানা ছুটি ও বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব ঘিরে কক্সবাজারের সাগরতীরে মানুষের স্রোত নেমেছে। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সমুদ্রসৈকতে সাগরের নোনাজলের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় মেতেছেন সব বয়সের মানুষ। সাগরতীরে গোসল, আনন্দ-উল্লাসের প্রিয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় বন্দির প্রতিযোগিতায় মগ্ন আগত এসব মানুষ।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা শুক্রবার  (২৯ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন, কক্সবাজারে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করছে। বাস্তবে আগত দর্শণার্থীর সংখ্যা তারও অনেক বেশি। তবে পাহাড়ের শহর বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পর্যটকের উপস্থিতি তেমন ছিল না। অন্যদিকে রাঙামাটির সাজেকের পর্যটকের ঠাঁইহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেড়াতে এসে রিসোর্ট-কটেজে কক্ষ না পেয়ে শত শত পর্যটক রাস্তা, বারান্দা, স্টোর রুম, গাড়িতে রাত কাটিয়েছেন।

গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সবকটি পয়েন্টে মানুষের ঢল দেখা গেছে। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সমুদ্র সৈকতে ৭ দিনের পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল চলছে। যে কারণে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের প্রবেশদ্বার সাজানো হয়েছে রঙিন ছাতায়। সৈকতের প্রবেশের শুরুতেই মুগ্ধ পর্যটকরা রঙিন ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে তুলছেন ছবি। সৈকতের বালিয়াড়িতে দৌঁড়াচ্ছে ঘোড়া আর এসব ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরছেন ভ্রমণপিপাসুরা। আবার ঘোড়ার পিঠেও ছবি তুলছেন শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ। অনেকেই সমুদ্রস্নান আর জেডস্কিতে চড়ে প্রশান্তির খোঁজে সাগরে মেতেছেন নিজের মতো।

দুবাইপ্রবাসী শিহাব করিম বলেন, দীর্ঘ ৭ বছর পর দেশে এসেছি। এখন পরিবার নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছি। এখানে সৈকতে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি পর্যটন মেলা হচ্ছে পরিবার নিয়ে খুব আনন্দ করছি। বিশেষ করে সৈকতের প্রবেশদ্বারে রঙিন ছাতাগুলোতে ছবি তুলে খুবই ভালো লেগেছে।

দিনাজপুর থেকে আসা পর্যটক আকরাম হোসেন বলেন, চাকরি জীবনে খুবই কম ছুটি পাওয়া হয়। এবার টানা ৩ দিনের ছুটিতে একটু প্রশান্তির খোঁজে কক্সবাজার ছুটে আসি।

এদিকে সাগরে বৈরী আবহাওয়া বইছে। ঢেউয়ের মাত্রাও বেড়েছে। বিরূপ আবহাওয়ায় মেঘাচ্ছন্ন আকাশে দিনভর থাকলেও বেলা ৩টার দিকে টানা এক ঘণ্টার মাঝারি বৃষ্টিতে পরিবেশ হয়ে উঠে হিম-শীতল। যা পর্যটকের মধ্যে তৈরি করেছে ভিন্ন এক প্রশান্তির। তবে আবহাওয়াগত কারণে সৈকতের সবকটি পয়েন্টে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে লাইফ গার্ড সংস্থা।

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার ইনচার্জ মোহাম্মদ শুক্কুর বলেন, টানা ছুটি ও পর্যটন মেলাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সৈকতে এখন লাখো পর্যটক। তাদের অধিকাংশই কিন্তু সমুদ্রস্নানে ব্যস্ত। এখন তাদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে হিমহিশ খেতে হচ্ছে। তারপরও পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, চেষ্টা করছি পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। কক্সবাজারের ৫ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও মোটেলের ৯৯ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এ হিসাব মতে শুক্রবার লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজার এসেছেন।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখন কক্সবাজারে। সৈকতের পরিস্থিতি বলছে পর্যটক আগমনের সংখ্যা দেড় লাখের বেশি। যাদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষে চারদিকে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, আগত পর্যটকরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেক সৈকতসহ অন্য স্পটে ভ্রমণ করছে। এ ছাড়া টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু করায় প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনেও পর্যটকরা ভ্রমণ করছে। যেখানেও নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সাজেকে ঠাঁইহীন পরিস্থিতি

টানা ছুটিতে পাহাড়বেষ্টিত জেলা বান্দরবন ও খাগড়াছড়িতে পর্যটকের দেখা না মিললেও রাঙামাটির সাজেকের দৃশ্য ভিন্ন। যেখানে তৈরি হয়েছে ঠাঁইহীন পরিস্থিতি। বেড়াতে এসে রিসোর্ট-কটেজে কক্ষ না পেয়ে কয়েকশ পর্যটক রাস্তা, বারান্দা, স্টোর রুম, গাড়িতে রাত কাটিয়েছেন।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সূত্রে জানা জানা যায়, গত মঙ্গলবারের আগে রুইলুই ভ্যালির রিসোর্ট-কটেজের সব কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যায়। বৃহস্পতি ও শুক্রবার কক্ষ বুকিং ছাড়া অন্তত পাঁচ শতাধিক পর্যটক আসেন। এর মধ্যে কিছু ফিরে গেলেও অন্তত চার শতাধিক পর্যটক রুইলুই ভ্যালিতে রয়ে যান। পর্যটকের চাপে হিমশিম খাচ্ছে রিসোর্ট মালিকরা।

রিসোর্ট মালিকরা সমিতির সূত্র বলছে, কক্ষ না পেয়ে রাতে তাঁবু এবং স্থানীয় গ্রামগুলোর বাসা-বাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে পাঁচজনের একটি দলের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন তরুণ মো. মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে রিসোর্ট-কটেজগুলোয় কক্ষ ভাড়া নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি, কিন্তু কোথাও খালি নেই। আমরা সবাই রাস্তায় ঘুরে রাত কাটিয়েছি। আমাদের সঙ্গে আরও অনেক পর্যটক ছিলেন। পূর্ণিমার রাত থাকায় খারাপ লাগেনি।’

সাজেক জুমঘর ইকো রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ইয়ারং ত্রিপুরা বলেন, বৃহস্পতিবার প্রচুর পরিমাণ পর্যটক এসেছেন সাজেকে। আমাদের কটেজগুলো শতভাগ বুকিং রয়েছে। যারা বুকিং না করে এসেছিলেন তাদের রুম পেতে কষ্ট হয়েছে। 

রুইলুই ভ্যালির রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জেরি লুসাই বলেন, যারা কক্ষ পায়নি তাদের জন্য লুসাই ক্লাব ও ত্রিপুরাপল্লীর বাসা-বাড়িতে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ১১২টি রিসোর্ট-কটেজ রয়েছে। এসব রিসোর্ট-কটেজগুলোয় ৪ হাজারের বেশি অতিথি থাকতে পারেন। 

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা আছে। ধারণক্ষমতার বেশি পর্যটক এলে কক্ষ না পাওয়া বা বাইরে থাকার মতো সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে সাজেকের সবকটি রিসোর্ট কটেজের অনলাইন বুকিং সিস্টেম চালু আছে। তাই পর্যটকরা অ্যাডভান্স বুকিং দিয়ে এলেই ভালো, নতুবা সমস্যায় পড়তে হয়। উপজেলা প্রশাসন থেকে পর্যটকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে বিশেষ করে টানা বন্ধের দিনগুলোতে সাজেকে অ্যাডভান্স বুকিং দিয়ে আসার জন্য।

কুয়াকাটায় পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘রাখাইন জাদুঘর’

পটুয়াখালীর সাগরকণ্যা কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া। কথিত আছে এই মূর্তিটি উপমহাদেশে গৌতম বুদ্ধের সর্ববৃহৎ মূর্তি। এটি রাখাইন সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়। রাখাইন সম্পদ্রায়ের লোকেরা এটিকে দেবতা মনে করে এবং উপাসনা করে। সেখানে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ হিসেবে ভ্রমণ স্পটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাখাইন জাদুঘর। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে উদ্বোধন করেন কলাপাড়ার ইউএনও জাহাঙ্গীর হোসেন।

সায়মা নামের একজন পর্যটক জাদুঘরটি পরিদর্শন করে বলেন, ‘আমরা এর আগেও অনেকবার কুয়াকাটায় এসেছি। রাখাইনদের বিষয়ে অনেকের কাছে প্রশ্ন করতে হয়েছে। তবে এ জাদুঘরের মধ্যে সবকিছু তুলে ধরা হয়েছে। এটি পর্যটকদের অনেক জানার তৃষ্ণা মিটাবে।’

জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা মংলাচিং রাখাইন বলেন, আমাদের রাখাইন সম্প্রদায় এখন বিলীনের পথে। তাই রাখাইনদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছি। অনেক সাড়া পেয়েছি। পর্যটকরাও অনেক উপভোগ করছেন।

বান্দরবানে ৩০ শতাংশ ছাড়েও সাড়া মেলেনি পর্যটকের

টানা তিন দিনের ছুটিতে হোটেলের কক্ষ ভাড়ায় ৩০ শতাংশ ছাড় দিয়েও পর্যটকের আশানুরূপ সাড়া মেলেনি বান্দরবানে। গতকাল হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও পরবর্তীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পর্যটন খাত। বান্দরবান হোটেল মোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হোটেল আরণ্যের মালিক জসিম উদ্দিন জানান, আশা করেছিলাম তিন দিনের টানা ছুটিতে বান্দরবান ভ্রমণে বিপুল সংখক পর্যটক আসবেন। তবে পর্যটকদের আশানুরূপ সাড়া মেলেনি ।

শৈল প্রপাত, নীলাচল, মেঘলা স্থানীয় পর্যটন স্পটগুলোতেও সরেজমিনে দেখা যায় পর্যটকের উপস্থিতি তেমন নেই, টানা ছুটিতে আগে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় থাকত এবার তেমন পর্যটকের আগমন ঘটেনি। জেলা প্রশাসন পরিচালিত নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের টিকিট কাউন্টারের আদিব বড়ুয়া জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাত্র ৫০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। অথচ আগে টানা ছুটিতে দৈনিক ৩ থেকে ৪ হাজার টিকিট বিক্রি হতো। 

তিন তারকা মানের হোটেল হিলটনের ম্যানেজার তপন কান্তি বড়ুয়া জানান, বৃহস্পতিবার হোটেলে মাত্র ৩০ শতাংশ কক্ষে পর্যটক রয়েছেন। 

প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিবেদকরা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা