সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:০১ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৩১ এএম
পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার আয়োজনে নৌকাবাইচ ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রবা ফটো
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাংলাদেশের ঐতিহ্য বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ঈদ, পূজাপার্বণ ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব এবং মৌসুমি ও ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ধর্মবর্ণনির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণই আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বঐতিহ্যের অংশে পরিণত করেছে। আমাদের বাংলা বর্ষবরণ বিশেষ করে মঙ্গল শোভযাত্রা বিশ্বঐতিহ্যের উজ্জ্বল স্বাক্ষর। এ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আমাদের যেকোনো মূল্যে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আমাদের ঐতিহ্য।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইছামতী নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার আয়োজনে নৌকাবাইচ ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু।
তথ্যপ্রযুক্তি ও আকাশ সংস্কৃতির বর্তমান যুগে দেশি ও লোকজ সংস্কৃতিসমূহ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ অবস্থায় নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি যথা নৌকাবাইচ, পুতুলনাচ, জারি-সারি, ভাওয়াইয়া গান, গ্রাম্য মেলা, নানাবিধ উৎসব ইত্যাদি তুলে ধরতে হবে। আমাদের সংস্কৃতি ও ভাষাই আমাদের অস্তিত্ব ধারণ করে। তাই বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও উৎকর্ষ সাধন জরুরি। এগুলো নিয়ে বেশি বেশি গবেষণা করাও প্রয়োজন।’
উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘উন্নয়ন তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন এর সঙ্গে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা থাকে। নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শগত কারণে আমরা বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী হতে পারি; কিন্তু নিজ নিজ এলাকা তথা দেশের উন্নয়নে আমরা এক ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব এটাই জনগণের প্রত্যাশা।’
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা বিশ্বের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়, তবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অর্থনীতির নেতিবাচক পরিস্থিতি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সব মেগা প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ হয়েছে। জনগণ এসব প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করেছে।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘পাবনার উন্নয়নেও নতুন গতি এসেছে। ২০০৮ সালে পাবনায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও এতদিন কোনো হাসপাতাল ছিল না। আজ সকালেই পাবনার ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণকাজের শুভসূচনা করা হয়েছে। পাবনা থেকে রেল চলাচল এ মাসেই শুরু করার কথা থাকলেও প্রশাসনিক ও কারিগরি কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে অল্প দিনের মধ্যে পাবনা থেকে রেল চলাচল শুরু হবে, ইনশা আল্লাহ। এ ব্যাপারে আমি রেলপথমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে এসেছি। এ ছাড়া পাবনার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীর সংস্কার ও পুনঃখননের একটি প্রকল্পও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। তাই পাবনার উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচারণা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা তাকে ধরে রাখতে পারিনি। বঙ্গবন্ধু আমাদের সঙ্গে না থাকলেও তাঁর নীতি-আদর্শই বাঙালির এগিয়ে যাওয়ার পথনির্দেশিকা ও অনুপ্রেরণা। আমরা তাঁর দেখানো পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাকে পরিণত করব তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলায়। এটাই হোক আজকে আমাদের সবার অঙ্গীকার।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গেস্ট অব অনার ফার্স্ট লেডি ড. রেবেকা সুলতানা। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম আবদুর রহিম পাকন, সাঁথিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম বাচ্চু, বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র ডেপুটি স্পিকারপুত্র আসিফ শামস্ রঞ্জন।