লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:১০ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:৫৫ পিএম
চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পুলিশ পরিচয়ে এক যুবককে বিবস্ত্র করে গাছে বেঁধে নির্যাতনের মামলায় ইউপি সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে দুপুরে কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের বর্ডার এলাকা থেকে রামগতি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ওই ইউপি সদস্যের নাম- আব্দুর রহিম। তিনি চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম মো. সুমন। চরবাদাম ইউনিয়নের পূর্বচরসীতা গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আনোয়ার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, অপহরণ মামলায় পলাতক আসামি আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন দুটি সিএনজি অটোরিকশায় করে কয়েকজন পঞ্চায়েত বাড়ির মসজিদের সামনের রাস্তায় যান। একপর্যায়ে মামলা আছে বলে তারা পুলিশ পরিচয়ে সুমনকে তুলে নেন। ভুলুয়া নদীর পাশে ফিরোজ মিয়ার প্রকল্প এলাকার নির্জনস্থানে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গাছের সঙ্গে দুহাত বেঁধে তার (সুমন) মোবাইলফোন থেকেই ইউপি সদস্য আবদুর রহিমকে কল দেওয়া হয়। এরপর আবদুর রহিম এসে তাকে বিবস্ত্র করার নির্দেশ দেয়।
একপর্যায়ে তার শরীরে পিঁপড়া ছেড়ে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মারতে থাকেন ওই ব্যক্তিরা। পরে মুখে কাঁদা ঢুকিয়ে দিলে তিনি বমি করেন। এ সময় মুখে লতাপাতা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে কালোকাপড় বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। পরদিন সুমনের ভাই আবদুল মাজেদ রাজিব বাদী হয়ে মামলা করেন। ইউপি সদস্য আবদুর রহিমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়।
বাদীর আইনজীবী মো. ইয়াহিয়া সোহাগ জানান, মামলার পর আসামি আব্দুর রহিমসহ অন্যরা উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গত ২৪ জুলাই আসামিদের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। আসামিরা উপস্থিত হলেও আব্দুর রহিম উপস্থিত হননি। এতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।