মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৪০ এএম
কিশোরগঞ্জ কর্শাকড়িয়ালে সড়ক পাকাকরণের দাবি জানিয়ে ধানের চারা রোপণ করছেন এলাকাবাসী। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চিকনীচর এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এটি পাকা করার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কোনো ফল হয়নি। তাই মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানায় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের যশোদল থেকে মাঠের বাজার পর্যন্ত সড়কটির অবস্থান। সড়কটি কটিয়াদীর গচিহাটা ও সদর উপজেলার যশোদলসহ তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। এলাকাবাসী জানায়, বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তাটি পাকা করার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা কার্যকর হয়নি। গ্রামের লোকজন সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে। বর্ষা এলে বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
১৫ মিনিটের রাস্তা চলাচলে সময় লাগে ১ ঘণ্টা। কৃষিপণ্য নিয়ে হাটবাজারে যেতে না পারায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাইকচালক দিদার হোসেন বলেন, রাস্তার অবস্থা জঘন্য। এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারি না। পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্য যেতে হচ্ছে।
উত্তর চিকনীচর গ্রামের সোহাগ বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকে দেখে আসছি রাস্তাটি কাঁচা, কেউ পাকা করে দেয়নি। উত্তর চিকনীচর গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার লোকের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এটি। বর্ষাকালে কাদাপানিতে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ওই সময় বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় বেশি। কেউ অসুস্থ হলে কাদাপানি মাড়িয়ে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ রাস্তা দিয়ে জেলা সদরের অন্যতম বাজার যশোদল, মাঠের বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চলাচল করে। যশোদল, গচিহাটা, কর্শাকড়িয়াল- এ তিন ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বাস। দুটি স্কুল-কলেজের কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রীসহ নানা পেশার মানুষ এই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে।
কর্শাকড়িয়াল হেওড়া সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, বৃষ্টির দিন এ রাস্তা দিয়ে তারা স্কুলে যেতে পারে না। কাদায় জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। তার মতো শহরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ চলাচল করে। বর্ষা মৌসুমে সড়কে কাদা হওয়ায় চলা দায় হয়ে পড়ে।
কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. বদর উদ্দিন বলেন, রাস্তায় ধানগাছ লাগানোর বিষয়টি শুনেছি। রাস্তাটি পাকা করার চেষ্টা করেও পারছি না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছি।
কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম আঙ্গুর বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে কয়েকজন কথা বলেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।
কিশোরগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যোগাযোগ করলে ব্যবস্থা নেব।