× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিষ্পাপ শিশু মোহাম্মদকে বেড়ে উঠতে হবে কারাগারে!

হাসান মাহমুদ শাকিল, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:১৬ পিএম

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:১৭ পিএম

মা কহিনুর বেগমের কোলে  শিশু মোহাম্মদ। প্রবা ফটো

মা কহিনুর বেগমের কোলে শিশু মোহাম্মদ। প্রবা ফটো

শিশু মোহাম্মদ, ৬ মাস আগে কারাগারে কারাবন্দি নারীর গর্ভে তার জন্ম। অপরাধী না হয়েও নিষ্পাপ এ শিশুটিকে বেড়ে উঠতে হবে কারাগারে। মায়ের কোলে চেপে সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৬ বছরের জন্য তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালতে শিশু আহমেদ (৩) হত্যা মামলার রায় শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত কহিনুর বেগমের (২৬) কোলে থাকা ফুটফুটে শিশু মোহাম্মদ সবার নজরে ছিল। এ সময় আদালতে উপস্থিত জনসাধারণ দণ্ডপ্রাপ্ত নারী ও নিষ্পাপ শিশুটিকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আদালতে গিয়ে দেখা যায়, শিশু মোহাম্মদকে কোলে নিয়ে তার মা কহিনুর এজলাসের ভেতর বেঞ্চে বসা ছিলেন। এর মধ্যে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েও ছিলেন। সোমবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিচারক শিশু আহমেদ হত্যার রায় দেন। এর কয়েক মিনিট পরই শিশু মোহাম্মদকে কোলে নিয়ে রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কহিনুরের হাত ধরে বের করে আনে দুজন নারী পুলিশ। তখন এজলাসের সামনে দাঁড়ানো লোকজন চেয়েছিল ফুটফুটে শিশুটির দিকে। শিশুটিও সবার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য সবার মনকে বিষণ্ন করে তুলেছে। সৎ ছেলেকে হত্যা করে নিজের গর্ভের সন্তানের জন্ম দিতে হয়েছে কারাগারে। মায়ের দোষে আজ ফুটফুটে মোহাম্মদ উন্মুক্ত পৃথিবীর আলো-বাতাসে নয়, কারাগারের চার দেওয়ালের মাঝে বেড়ে উঠবে।

জেলা কারাগারের জেলার সর্বোত্তম দেওয়ান মোবাইল ফোনে বলেন, গর্ভবতী অবস্থায় হত্যা মামলায় কহিনুর কারাগারে আসেন। পরে তাকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ৬ মাস আগে সেখানে তিনি সন্তান প্রসব করেন। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর কারাগারে নিয়ে আসা হয়। আজ মামলার রায় দিয়েছে। ৬ বছর পর্যন্ত সে তার মায়ের সঙ্গে কারাগারেই থাকবে। 

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন জানান, রাগের মাথায় আসামি কহিনুর শিশু আহমেদের পেটে লাথি দিলে সে মারা যায়। ২০২২ সালের ২৯ আগস্ট থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। পরে কারাগারেই তিনি সন্তান জন্ম দেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম শিশু আহমেদ হত্যায় কহিনুরের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মোহাম্মদ যেহেতু দুধের শিশু, এতে তাকে দুগ্ধপান ও লালনপালনের জন্য মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকতে হবে। এতে মায়ের সঙ্গে তাকেও কারাগারে যেতে হয়েছে। 

মামলার বাদী ও শিশু মোহাম্মদের বাবা মিরন হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, মোহাম্মদকে বাইরে রাখার জন্য আদালতসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুধের শিশু হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে আমাদের কাছে দেওয়ার বিধান নেই। এজন্য তাকে বাইরে রাখতে পারিনি। 

দণ্ডপ্রাপ্ত কহিনুর রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের উত্তর দরবেশপুর গ্রামের মোবারক হোসেন কুট্টির মেয়ে। 

মামলার বাদী মিরন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রায়চৌ গ্রামের হাবিব মিয়ার ছেলে। দণ্ডপ্রাপ্ত কহিনুর বাদী মিরনের দ্বিতীয় স্ত্রী। 

মামলার এজাহার সূত্র জানা যায়, মিরন ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি করেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রথম স্ত্রী শারমিন আক্তারের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। আহমেদ তার প্রথম সংসারের ছেলে। কিছুদিন পর মিরন রামগঞ্জের কহিনুরকে বিয়ে করেন। শিশু আহমেদসহ দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি নিজ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২২ সালের ২২ জুলাই স্ত্রী-সন্তানকে রেখে তিনি ঢাকায় কর্মস্থলে চলে যান। ১০ আগস্ট আহমেদকে নিয়ে কহিনুর রামগঞ্জের দরবেশপুরে তার বাবার বাড়িতে যান। সেখান থেকে ২৭ আগস্ট কহিনুর তার স্বামীর বাসায় আসেন। এরপর মিরনকে তিনি জানান আহমেদকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই দিন ঢাকা থেকে এসে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তিনি ছেলেকে পাননি। পরে ২৮ আগস্ট হাজীগঞ্জ থানা পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়। পরদিন হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ বাসায় গিয়ে কহিনুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন। কহিনুর পুলিশকে জানান, ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত ২টার দিকে পেটে লাথি দিলে আহমেদ মারা যায়। পরে দা দিয়ে খাটের নিচে গর্ত করে তার মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। পরবর্তীতে রামগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২৯ আগস্ট বিকালে দরবেশপুর এসে কহিনুরের বাবার বাড়ির শয়নকক্ষের খাটের নিচে পুঁতে রাখা আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন মিরন বাদী হয়ে কহিনুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 

একই বছর ৩০ অক্টোবর রামগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস আদালতে আসামি কহিনুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা