সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৯:১৩ এএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০০:১৫ এএম
শরৎকাল এলেই কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র সেতুসংলগ্ন এলাকায় কাশফুলের সৌন্দর্যের টানে আসা প্রকৃতিপ্রেমীর ভিড় জমে। হাওয়ায় দোলা সাদা-ধূসর কাশফুলের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। প্রবা ফটো
প্রকৃতিতে শরতের আগমনী বার্তা জানিয়ে দেয় কাশফুল। এ সময় নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা উড়ে বেড়ায়। সবুজ ঘাসের ভেতর মাথা উঁচু করে হাওয়ায় দোল খায় পালকের মতো নরম ধবধবে সাদা কাশফুল।
শরৎকাল এলেই কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র সেতুসংলগ্ন এলাকায় কাশফুলের সৌন্দর্যের টানে আসা প্রকৃতিপ্রেমীর ভিড় জমে। হাওয়ায় দোলা সাদা-ধূসর কাশফুলের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কাজী করিম উল্লাহ জানান, কাশফুল ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। এর চিরল পাতার দুই পাশ খুবই ধারালো। কাশফুল শুভ্রতার প্রতীক। ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে। তাই শুভকাজে ব্যবহার করা হয় কাশের পাতা বা ফুল। একসময় ঘরের ছাউনিতে কাশের ব্যবহার ছিল। রয়েছে কিছু ঔষধি গুণও।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হোসেনপুরের ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাদার মেলা বসিয়েছে কাশফুল। নদের বুক ছুঁয়ে শীতল হাওয়া ভেসে আসছে কাশের বনে। হাওয়ায় দুলছে, নেচে উঠছে কাশফুল। মনোমুগ্ধকর এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আশপাশ এলাকার বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছুটে এসেছেন। তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। তাদের কেউ সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন। কেউ আবার কাশফুল ছিঁড়ে তোড়ার মতো তৈরি করছেন। আর আশপাশে শিশুরা কাশবনে খেলায় মেতে উঠেছে। শেষ বিকালে কোলাহল বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কারণ বেশিরভাগ সৌন্দর্যপিপাসু আসেন এ সময়।
স্থানীয়রা জানান, ভাদ্রের শেষ দিকে এখানে কাশফুল ফুটতে শুরু করে। একসময় পুরো এলাকা সাদা হয়ে যায়। কার্তিক পর্যন্ত থাকে কাশফুলের এ সৌন্দর্য। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে মুক্ত আনন্দ পেতে প্রতিনিয়ত এখানে ছুটে আসে মানুষ।
এখানে বেড়াতে আসা গৃহিণী রিতু আক্তার বলেন, ‘কাশফুলের সমারোহে বিকালের বাতাস যেন শীতের আগমনের বার্তা দিচ্ছে। শৈশবের স্মৃতিগুলোও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’
সরকারি গুরুদয়াল কলেজের শিক্ষার্থী ইভা আক্তার বলেন, ‘সাদা কাশফুল ও সবুজের পাশ দিয়ে চলার অনুভূতি অন্যরকম। এখানে কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে মন ভরে গেছে। স্মৃতিটা ধারণ করে রাখছি মুঠোফোনের ক্যামেরায়।’
করিমগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী জেরিন আক্তার বলেন, ‘কাশফুল ছাড়া শরৎ পরিপূর্ণ হয় না। ব্রহ্মপুত্রের তীরে প্রতি বছরই কাশফুল ফোটে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেকেই ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যায়।’
তবে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নোয়াপাড়ার মামুন মিয়া জানালেন কিছুটা শঙ্কার কথা। তিনি বলেন, ‘মুষ্টিমেয় মানুষের নোংরা আচরণে কলুষিত হচ্ছে মধুময় পরিবেশ। দর্শনার্থীদের ফেলছেন বিপাকে, হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকাপয়সা। কিছু তরুণ-তরুণী সুযোগ বুঝে জড়িয়ে পড়ছেন অশ্লীলতায়। বখাটে ও মাদকাসক্তদেরও আনাগোনা লক্ষ করা যায়। এখানে অবস্থান করে সৌন্দর্য উপভোগের পুরোপুরি অনুকূল পরিবেশ নেই।’