দুর্ভোগ
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:০৮ এএম
দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী ভবনে চলে রায়পুরা উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম। প্রবা ফটো
জরাজীর্ণ ভবনটির ছাদের ইট, সুরকি, পলেস্তারা খসে পড়ছে প্রতিনিয়ত। ছাদের বেশ কয়েক জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল। ভাঙাচোরা এ ভবনেই ঝুঁকির মধ্যে চলছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম।
সরেজমিনে গত বুধবার দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ভবনটি। ভবনটির ভেতরের ছাদ থেকে সুরকি, পলেস্তারা খসে পড়ছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জায়গাজমি-সংক্রান্ত কাজে আসা সেবাপ্রার্থীদের গায়ের ওপর। সুপেয় পানির অভাবের সঙ্গে রয়েছে অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এরই মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিসে বসে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চার কক্ষবিশিষ্ট এ ভবনে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ সেবা নিতে আসে। দীর্ঘদিন ধরেই এ জরাজীর্ণের মধ্যে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সবাই কোনো রকমে এক রুমে বসেই সব কার্যক্রম চালাচ্ছি। ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরার কারণে ভবনের ছাদ যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো আছেই। ইতোমধ্যে ভবনের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ায় ভূমিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হতে শুরু করেছে।
জমি খারিজ করতে আসা সুজিয়া বেগম ও ফিরোজা বেগম জানান, ভবনটি পুরাতন হওয়ায় ভবনের চারপাশের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মাথার ওপর ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। যেকোনো সময় প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাশের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি পাশেই, এই ভবনটি কখনও মেরামত করতে দেখি না। দেয়ালে বড় বড় ফাটল হওয়া ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে।’
রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই ভবনেই কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ভবনটি নির্মাণের পর থেকে দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় আতঙ্কের মধ্যেই অফিস করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আতঙ্কে থাকেন সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষও। জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত ভবন নির্মাণে বাজেট আসবে।’