বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:০৬ পিএম
বান্দরবান পার্বত্য জেলার খেয়াং জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় উদ্ভাবিত হোয়ো বর্ণমালায় কম্পিউটার কি-বোর্ড উদ্বোধন। প্রবা ফটো
বান্দরবান পার্বত্য জেলার খেয়াং জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় উদ্ভাবিত হোয়ো বর্ণমালায় কম্পিউটার কি-বোর্ড উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের গুংগুরুমুখ খেয়াং কমিউনিটি সেন্টারে এই কি-বোর্ড উদ্বোধন করা হয়।
সমাজকর্মী অংসাউ খেয়াংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ম্রাসা খেয়াং। এ ছাড়া ভাষা গবেষক মৃদুল সাংমা, রিবেং দেওয়ান, ভাষা প্রযুক্তিবিদ সমর এম সরেন, প্রথম আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, শিক্ষিক হ্লা ক্রই প্রু খেয়াং, চিংহ্লা উ খেয়াং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিংশ শতাব্দীর উন্নত প্রযুক্তিতে নিজেদের মাতৃভাষায় লিখিত রূপে মনের ভাব বিনিময় করতে পারা সত্যিই গর্বের বিষয়। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই ভাষাটি কম্পিউটার কি-বোর্ডে যুক্ত করার উপযোগী করা হয়েছে তাদের এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা স্মরণ রাখবে।
ফ্রেন্ডস অব এন্ডেঞ্জার্ড এথনিক ল্যাংগুয়েজস (ফিল) সংস্থার তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই মাসের প্রচেষ্টায় এই ভাষার বর্ণমালা কম্পিউটার কি-বোর্ডে যুক্ত করা হয়। ভবিষ্যতে মোবাইল কি-বোর্ডে ব্যবহারের উপযোগী অ্যাপস তৈরি করা হবে। যার মাধ্যমে মোবাইলে খেয়াং ভাষার বর্ণমালা ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে এই জনগোষ্ঠীর মানুষ।
ফিলের ভাষা গবেষক রিবেং দেওয়ান বলেন, গত দুই বছর আগে দেশে বিপন্ন প্রায় যে ভাষাগুলো রয়েছে সেগুলোকে ডিজিটালাইজ করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। এই পর্যন্ত ১৬টি বিপন্ন ভাষায় কম্পিউটার কি-বোর্ড তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
রিবেং দেওয়ান বলেন, ভাষা গবেষক মৃদুল সাংমা, ভাষা প্রযুক্তিবিদ সমর এম সরেনসহ সাতজনের প্রচেষ্টায় খেয়াং ভাষায় উদ্ভাবিত কি-বোর্ডটি দেশে এবং এশিয়া মহাদেশে নবীনতম ডিজিটালাইজ ভাষায় যুক্ত হলো। যা পৃথিবীর লিখিত ডিজিটালাইজ ভাষার মধ্যে ২৯৪তম কি-বোর্ড ভাষায় স্থান পেয়েছে। এই ভাষার প্রচলন ও চর্চা বাড়াতে খেয়াং ভাষায় কবিতা, উপন্যাস, রূপকথার গল্প উদ্ভাবিত বর্ণমালায় লেখার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া খেয়াং, পাহাড়িয়া কুড়ুখ, চাকমা, ম্রো, আবেং (গারো), মেগাম (গারো), কোল, মুন্ডা, সান্তাল, খুমী ও খাড়িয়া, সওরা সম্প্রদায়ের ভাষা রিসোর্স ও রাইটিং টুলস, ভাষা অভিধানের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
খেয়াং বর্ণমালা উদ্ভাবনের অন্যতম সদস্য ঞো জাই উ খেয়াং বলেন, নিজেদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সহায়ক বর্ণমালা উদ্ভাবন করার পর ২০১৭ সালে ২২ অক্টোবর খেয়াং ভাষা ও বর্ণমালা বইয়ের প্রকাশনা উৎসব পালন করা হয়েছে। খেয়াং ভাষার বর্ণমালায় ১১টি স্বরবর্ণ ও ২১টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। উদ্ভাবিত খেয়াং ভাষার সঙ্গে উচ্চারণ, ধ্বনি সবকিছুই ঠিক আছে এবং শেখা খুবই সহজ। এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেয়াং ভাষা শেখানো হয়েছিল, আর্থিক সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, রোমান হরফে বর্ণমালায় খেয়াং ভাষার উচ্চারণ ও ধ্বনির কিছুই মিল নেই, রোমান হরফ দিয়ে লেখা ও ভাষা চর্চা করা হলে খেয়াং জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ সব হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।