বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:০৪ পিএম
ছবি : ভিডিও থেকে সংগৃহীত
বরগুনার তালতলীতে সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি চুরির ঘটনায় কবিরাজের (ফকির) থেকে ‘বাঁশ পড়া’ আনা হয়। চোর সনাক্ত করতে এলাকাবাসীর সামনে দেওয়া হয় ‘বাঁশ চালান’। এ সময় ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন হাফিজুর রহমান নামের এক যুবক। এই ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম নামে এক যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) ছোটবগী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন দিন আগে চরপাড়ার কামাল তালুকদারের ঘর থেকে সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি চুরি হয়। এ জন্য তিনি থানায় অভিযোগ না দিয়ে চোর সনাক্তে কথিত ফকির আমতলীর হোসনেয়ারা বেগমের কাছ থেকে ‘বাঁশ পড়া’ আনেন। এরপর তুলা রাশির একজন লোক এনে গ্রামবাসীর সামনে ওই বাঁশ চালান দিয়ে রবিউল নামের এক কিশোরকে চোর সনাক্ত করা হয়। এ ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়েন ওই এলাকার হাফিজুর। বিষয়টি ভাইরাল হলে চুরির অপবাদ ও ঘৃণায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন রবিউল। পরে পরিবারের সহযোগিতায় বেঁচে যান তিনি।
রবিউল বলেন, ‘আমি নদীতে মানুষের সঙ্গে জেলের কাজ করি। আমি বাঁশ চালানের কথা শুনে চোর দেখতে যাই। তবে আমাকেই চোর বানানো হয়েছে। এ অপবাদ নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকবো? তাই আত্মহত্যা করতে চেয়েছি।’
কামাল তালুকদার বলেন, ‘আমার ব্যাটারি চুরি হয়েছে। এ জন্য আমি বাঁশ পড়া এনে তা চালান দেই। তাতে রবিউল চোর সনাক্ত হয়। তবে থানায় কোনো অভিযোগ করিনি।’
এ ঘটনার ভিডিও ছড়ানো যুবক হাফিজুর বলেন, ‘বাঁশ চালানের ভিডিও অনেকেই করেছেন, ফেসবুকেও ছেড়েছেন। তাই আমিও ছেড়েছি।’
ফকির হোসনেয়ারা বলেন, ‘আমি বাঁশ পড়া দিতে চাইনি। জোর করে তিনি নিয়েছেন। আমি জীবনেও আর বাঁশ পড়া দেবো না।’
তালতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, এ বিষয় আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি। আর এসব বাঁশ চালানের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। রবিউলের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।