গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:৩৫ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:২৬ পিএম
আহত বরিশাল (উত্তর) জেলা যুবদল নেতা সেন্টু খান ও ভিপি বাদল। প্রবা ফটো
বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় রোডমার্চে যাওয়ার পথে নেতাকর্মীদের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বরিশাল (উত্তর) জেলা যুবদল নেতা সেন্টু খান ও ভিপি বাদলসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ৮টার দিকে বরিশালের গৌরনদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল (উত্তর) জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদুল আলম খান সেন্টুর নেতৃত্বে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় রোডমার্চে যোগ দিতে একটি গাড়ি বহরে রওনা দেয়। তারা ঢাকা-বরিশাল হাইওয়ের গৌরনদী বাসস্টান্ডে এলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের গাড়ি বহরে হামলা চালায়। এ সময় তারা চাইনিজ কুড়াল, রামদা, দেশী-বিদেশী অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠি দিয়ে যুবদল নেতাকর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।
হামলায় আহত যুবদল নেতা সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু, কে এম আনোয়ার হোসেন বাদল (ভিপি বাদল), বিএনপি নেতা মহিম হাওলাদার, যুবদলকর্মী আজিজুল সরদার, স্বপন হাওলাদার, কামাল বেপারী, সাঈদ ফকির, মনির খলিফা, মামুন হাওলাদার, মিঠু খলিফা আহত হন।
যুবদল নেতা সেন্টু খান ও ভিপি বাদল অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদেরকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। তারা গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহিম হাওলাদারকে পিটিয়ে তার একটি পা ভেঙ্গে ফেলেছে।’
অপরদিকে, এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।
গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ, এম জয়নাল আবেদীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিএনপির কর্মসূচীতে যোগদানকারীদের বাধা দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের দলের ছিল না। হামলার কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। ওদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব হতে পারে।’
এ ছাড়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আনিচুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুবায়েরুল ইসলাম সান্টু ভূইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা ফোন কল রিসিভ করেননি।
তবে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহাবুব আলম ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান দীপ বলেন, ‘যুবলীগের কোনো নেতাকর্মীর এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। যুবদলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তাদের নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
দলের রোডমার্চ কর্মসূচীতে যোগদিতে যাওয়ার পথে যুবদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, থানা পুলিশ ও বরিশাল জেলা পুলিশ প্রশাসনের নির্লিপ্ততাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা প্রদানের অপরাধে মার্কিন প্রশাসন যেদিন সরকারি দলের নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বিচার বিভাগসহ দায়িত্বশীলদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে; ঠিক তার ১২ ঘণ্টার মাথায় গৌরনদীতে সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের এ তান্ডবলীলা প্রমাণ করে; এ জনপদ ভয়ংকর বিভীষিকাময় রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে।’