চট্টগ্রামে নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০০:৫০ এএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৩৫ এএম
দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মধ্যে এক একটা হায়েনা ও শকুনের দল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মহাজোটের শরিক তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। তিনি এও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অধিকার নেই তাকে অপমান করার।
রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফটিকছড়িতে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
নজিবুল বশর বলেন, ‘১৯ জুলাই রাত পৌনে ১২টায় যখন আমি বেরিয়ে আসি গণভবন থেকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে বলেছি— আপা, আগে অনেক সহ্য করেছি। এবার কিন্তু সবাই সবকিছু চাইবে, আপত্তি নেই; কিন্তু কোনো ধরনের অপমান সহ্য করব না। আপনি প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে আমি সম্মান করি। আপনারও অধিকার নাই আমি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে অপমান করার। ভালো না লাগলে বলবেন, এই মুহূর্তে রিজাইন করে চলে যাব। তবে রিজাইন করলে ঠিক থাকবেন কি না সেটা চিন্তা করে দেখেন। এত সস্তা না দুনিয়াদারি। এত সস্তা হলে তো বহুত কিছু হইত।’
নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য। এর আগেও বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন তিনি।
এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আওয়ামী লীগে একটা শকুনের দল আছে। তারাও জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের চেষ্টা করেছিল। দেশ একটা ক্রান্তিলগ্নে অবস্থান করছে। শকুনের দল একদিকে তাকিয়ে আছে। জামায়াত-শিবির, বিএনপিসহ আরেক শকুনের দল, হায়েনার দল আওয়ামী লীগের মধ্যেই আছে। এই ... বাচ্চারা জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলাতে চেয়েছিল। নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী দেয় নাই। গালি দিয়ে বললাম, নামও বলতে পারি, নাম বলব না। কোনো উপায় না দেখে ভারতের সহযোগিতা আমি নিয়েছি। এবং ইন্ডিয়ার সরকার স্পষ্ট বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে, নো জামায়াত। জামায়াতকে নিয়ে কোনো খেলা সরকার খেলতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘কোনো জঙ্গিকে প্রশ্রয় দেওয়া, জামায়াতকে নিয়ে কোনো খেলা হবে না। আমি দায়দায়িত্ব নিয়ে বলতেছি, আমি করেছি। সেই ক্ষমতা এবং হেডাম আছে বলেই করেছি। কেইসও করেছি ওদের বিরুদ্ধে। আজকে আওয়ামী লীগ অনেক সুফল পাচ্ছে। একটা সুফল— জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীই করেছে। দাবি কার? এটার সুফল কে ভোগ করতেছে? আওয়ামী লীগ।’
মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করব এবং ১৪ দলের জোটের ব্যানারেই নির্বাচন হবে। আর যদি তাদের কিছু লোক বাড়াতে হয়, অর্থাৎ কিছু সিট যদি বাড়াতে হয়, আমরাও চাই নিবন্ধিত দল যারা আছে তারা আসুক।’
বক্তব্যে আমলাদেরও সমালোচনা করেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান। বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে, পাশ কাটিয়ে কিছু করা সম্ভব না। এরা অনেক বেশি শক্তিশালী।
ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আবু তৈয়ব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির রাহমান সানি, ভাইস চেয়ারম্যান জেবুননাহার মুক্তা ও অ্যাডভোকেট ছালামত উল্লাহ চৌধুরী শাহীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এটিএম কামরুল ইসলাম, ফটিকছড়ি পৌর মেয়র মো. ইসমাঈল হোসেন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মহাজোটের শরিক হয়েও নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী দীর্ঘদিন ধরেই সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি নিজের নির্বাচনী আসন ফটিকছড়িতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সরকারকে এক প্রকার হুমকিই দেন তিনি।
তরিকত ফেডারেশন চেয়ারম্যান সে সময় বলেছিলেন, ‘আমার মুখ খোলাবেন না। মুখ খুললে অসুবিধা হয়ে যাবে। আমি আপনাদের সঙ্গে (আওয়ামী লীগ) আছি। আমাকে সাইজ করার চেষ্টা করলে নিজেরাই সাইজ হয়ে যাবেন। ওরা এখনও নজিবুল বশর কী তা চিনে নাই। আমার জন্য অনেকে কথা বলবে। বিএনপিকে তো ঘরে ঢোকানো সম্ভব; কিন্তু নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে না।’