বরিশালে সাইকেল শোভাযাত্রা
বরিশাল অফিস
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:১৭ পিএম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়নের দাবিতে বরিশালে সাইকেল শোভাযাত্রা। প্রবা ফটো
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়নের দাবিতে বরিশালে সাইকেল শোভাযাত্রা হয়েছে। শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জেলা শহরে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রান্তজন। শোভাযাত্রাটি জিলা স্কুল মোড় থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
শোভাযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বরিশাল শাখার সমন্বয়কারী রনজিত দত্ত।
সমাবেশে বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আহ্বায়ক একে আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৮টি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এলএনজিভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্রগুলো চালু হলে আমাদের অর্থনীতি ভঙ্গুর অর্থনীতিতে পরিণত হবে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানিতে ব্যয়ের এই বোঝা বাংলাদেশের জনগণের কাঁধে পড়ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বচ্ছ সক্ষমতা প্রদান এবং বিপুল জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের কারণে ক্রমাগত এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এলএনজি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ৩৫০ গ্রাম কার্বনডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়। যা আমাদের অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনায় ব্যাপক ক্ষতিকর। চলমান ডলার সংকটের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে এটি আমাদের মতো উপকূলীয় অঞ্চলবর্তী দেশের জন্য বিপজ্জনক।’
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ম্যাপ’র নির্বাহী পরিচালক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে আমাদের পরিবেশ ক্রমাগত কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্য গ্রিনহাউস গ্যাসে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এর মাত্রা যত বেশি হবে, ততই তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। পেট্রল, ডিজেল, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাসসহ প্রায় সব জীবাশ্ম জ্বালানিতেই কার্বন বিদ্যমান এবং তা পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবেই।’
তিনি বলেন, ‘কার্বন ডাই-অক্সাইডই পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত ওজনস্তরকে। এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ৩, ৪ বা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে, যতক্ষণ না নিঃসরণ বন্ধ হয়। এটি আমাদের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তাই আমাদের দেশের অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনায় এলএনজি টার্মিনাল ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করতে হবে। মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা অনুসারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়ন করতে হবে।’
আরও বক্তব্য দেন, প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক এসএম শাহাজাদা, এনভিএস-এর নির্বাহী পরিচালক শওকত আলী বাদল, ইব্রাহিম হামিদ মাসুম, ও বিভিন্ন সংগঠনের উন্নয়ন কর্মী প্রমুখ।