× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কালিয়াকৈরে মেরামত অযোগ্য গাড়ির রাজত্ব

সেলিম রানা, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৪৬ এএম

কালিয়াকৈরে মেরামত অযোগ্য গাড়ির রাজত্ব। ছবি : সংগৃহীত

কালিয়াকৈরে মেরামত অযোগ্য গাড়ির রাজত্ব। ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ফিটনেসবিহীন গাড়ির রাজত্ব বেড়েই চলেছে। যেন এসব নিয়ন্ত্রণের কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর সদর ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকা থেকে গাজীপুর সদর পর্যন্ত কালিয়াকৈর ও তাকওয়া পরিবহনের দুই শতাধিক বাস-মিনিবাস প্রতিনিয়ত চলাচল করে। অধিকাংশ গাড়িরই নেই ফিটনেস সনদ। তবে চলছে বেপরোয়াগতিতে। 

নিয়ন্ত্রণহীন এমন চলাচলে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় বহু দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রী-পথচারী। দুর্ঘটনায় অকালে মহাসড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ। এরপরও থামানোর চেষ্টা নেই অতি মুনাফালোভী গাড়ির মালিকদের। ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি, অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়েই চালানো হচ্ছে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গাজীপুর সদর থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ৬০টি যাত্রীবাহী যানবাহন কালিয়াকৈর পরিবহন নামে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচল করে। এই মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যাত্রীবাহী গাড়িগুলোর মধ্যে অভিযোগের শীর্ষে রয়েছে তাকওয়া পরিবহন। এ পরিবহনের বেশিরভাগের ফিটনেস ও বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও মহাসড়কে খুব দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। গাড়ির মালিকরা কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে পুরাতন গাড়ির বডিতে রং দিয়ে ফিটফাট করে অদক্ষ চালকের হাতে তুলে দিচ্ছে গাড়িগুলো।

সূত্র জানায়, অধিকাংশ গাড়ির বৈধ কোনো কাগজপত্র ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। চালকদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তাকওয়া পরিবহনের শতাধিক মিনিবাস মহাসড়কে এলোমেলোভাবে যাত্রী তুলছে ও নামাচ্ছে। উঠতি বয়সি ছেলেদেরও দেখা যাচ্ছে চালকের আসনে। তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র আছে কি না, জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, ‘আমগো এই সব গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগে না, কোনো কাগজপত্রও লাগে না।’

তাকওয়া পরিবহনের ছোট সাইজের যাত্রীবাহী বাসগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে বেশিরভাগ সময়ই। বসার আসনটা খুবই নাজুক। উঠতি বয়সের চালকরা অন্য গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চলে। ফলে নানা সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।

কালিয়াকৈর বাস টার্মিনালের পাশেও সড়ক দখল করে যাত্রী ওঠানামানোর কাজ করা হচ্ছে। সড়কে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশ গাড়ির সংকেতবাতি নেই। গাড়ির বাইরের ও ভেতরের অংশে মাত্রাতিরিক্ত মরিচা পড়ে ক্ষয় হয়ে গেছে। এসব যানবাহনের বেশিরভাগের জানালার কাচসহ প্রয়োজনীয় বাতিগুলো অকেজো। ব্রেক কষলেই বিকট শব্দ কানে ভেসে আসে। ছাদের অংশে রয়েছে ছিদ্র, ভেতরে ফ্যান নেই, নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। এক পশলা বৃষ্টি হলেই ছাদ ও জানালার কাচ বেয়ে পানি অনায়াসে ঢুকে যায় গাড়ির ভেতর। এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে ঘটছে অনেক দুর্ঘটনা। যাত্রীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন হরহামেশাই। এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়ি চলতে শুরু করলে মনে হয় যেন কাচগুলো খসে পড়বে।

আব্দুল কুদ্দুস মিয়া নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে উঠে গাড়ির সিটে বসতে গিয়ে দেখি সিট ভেজা আর গাড়ির ছাদ দিয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। অফিসের সময়স্বল্পতার কারণে সেখানেই বসে এলাম। শরীর ভিজে গেছে। এসব গাড়ির যে অবস্থা মেরামতের যোগ্য না।’

লিপি আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কোনাবাড়ি ডিগ্রি কলেজে প্রতিদিন যাতায়াত করি। কালিয়াকৈর পরিবহনের মতো বিরক্তিকর কোনো গাড়ি মনে হয় না মহাসড়ক চলাচল করে। এরা অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে, সে সঙ্গে অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে। এ ছাড়া এসব বাস ঘন ঘন রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ায় আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমার মনে হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করছে।’

কালিয়াকৈর পরিবহনের এক চালক বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ গাড়ি ৯০৯ মডেলের। এসব গাড়ির বয়স ২৮-৩০ বছর। কোনোরকম ঠিকঠাক করে সেবা দিচ্ছি। গাড়ির ফিটনেস আছে কি না, জানতে চাইলে বলেন, এগুলোর ফিটনেস নেই। কোনোরকম মেরামত করেই চলছে।’ 

গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক নাছির উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইবাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা