× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিস্তৃত সবুজে রক্তিম শোভা

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৯:২২ এএম

লাল-সবুজের গালিচায় দুরন্তপনায় মেতেছে শিশুরা। সম্প্রতি বরিশালের উজিরপুরের সাতলার বিল থেকে তোলা। প্রবা ফটো

লাল-সবুজের গালিচায় দুরন্তপনায় মেতেছে শিশুরা। সম্প্রতি বরিশালের উজিরপুরের সাতলার বিল থেকে তোলা। প্রবা ফটো

দূর থেকেই চোখে পড়বে লাল আর সবুজের মাখামাখি। কাছে যেতে লাগলেই ধীরে ধীরে সবুজের পটভূমিতে লালের অস্তিত্ব চোখ জুড়িয়ে দেবে জাতীয় ফুল শাপলার বাহারি সৌন্দর্য। বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা গ্রাম এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা ও খাজুরিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে হাতছানি দিচ্ছে অপরূপ এই দৃশ্যের। 

বিলটির নাম সাতলার বিল হলেও বর্তমানে লাল শাপলার বিল নামেই অধিক পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে এই বিলটি। তবে পর্যটকদের কাছে অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সাতলা বিলে নজর পড়েনি সরকারের। জায়গাটিতে এখনও পর্যটকদের জন্য তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।

সূর্যরশ্মি পড়ামাত্রই যেন মন পাগল করা এক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয় সাতলা বিল। সড়কে দাঁড়িয়ে যত দূর চোখ যায়, নীল-সবুজের মাঝে লাল শাপলার গালিচা বিছিয়ে থাকার দৃশ্যই চোখে পড়ে। বিলের টলটলে পানিতে সবুজ পাতার ওপর মাথা উঁচু করে সৌন্দর্য ছড়ায় লাল শাপলা। তারই মাঝে বক, পানকৌড়ি, মাছরাঙা, ফিঙে, শালিক, দোয়েল, চড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলি তো মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিলটি।

প্রায় ১০ হাজার একর জলাভূমির টলটলে পানির ওপরের অপরূপ সৌদর্য উপভোগ করতে জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা বয়সের পর্যটকের ভিড় থাকে। ছুটির দিনসহ সপ্তাহের সাত দিনই সূর্য ওঠার আগ থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিস্তীর্ণ এই এলাকা। লাল শাপলার সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে উপভোগের জন্য কমপক্ষে ২০ স্পটে রয়েছে পাঁচশর ওপরে ছোট-বড় নৌকা। 

অপরদিকে, পর্যটকদের কাছে শাপলা ঘিরে ঘুরেছে মানুষের জীবন-জীবিকার চাকাও। একসময়ে বরিশালে বিলাঞ্চল খ্যাত সাতলা, বাগদা এলাকার অধিকাংশ মানুষ শাপলা খেয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২০ বছর ধরে আস্তে আস্তে লাল শাপলা বিলে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলাকার মানুষের জীবন জীবিকার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নতি হয়েছে এলাকার অর্থনৈতিক। 

আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামের বাসিন্দা জব্বার মাঝি বলেন, বাড়ির পাশের বিলের একটি নৌকার ঘাট করেছি। এ ঘাটে আমারসহ গ্রামের আরও কয়েকজনে মিলে কমপক্ষে অর্ধশত নৌকা রয়েছে। নৌকাযোগে পর্যটকরা বিলের মাঝে লাল শাপলা দেখতে যায়। প্রতি ঘণ্টা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে দেয়। প্রতিদিন গড়ে এক-একজন মাঝি আটশ থেকে এক হাজার টাকা আয় করে। 

সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার বলেন, একসময়ে বছরের ছয় মাস বেকার জীবনযাপন করত এই এলাকার মানুষ। এখন আর কেউ বেকার নেই। হারতা থেকে বাগদা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের পাশে পর্যটকদের জন্য কমপক্ষে ২০টি স্পট রয়েছে। এইসব স্পটে পাঁচশরও অধিক নৌকা রয়েছে। যা বিলে ভাসিয়ে অর্থ উপার্জন করে শ্রমজীবী মানুষরা। 

তবে, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এখনও পুরো সফলতা মিলছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে উজিরপুর পৌরশহরের ডাকবাংলো মোড় থেকে উজিরপুর ধামুরা-হাবিবপুর-হারতা হয়ে বাগধা পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার সড়ক বেহাল। ভাঙাচোরা আর খানাখন্দে ভরা সড়কটি সংস্কারের জন্য ২০২০ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছরের অধিক সময় পার হলেও সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়নি। 

পরিবার-পরিজন নিয়ে শাপলার বিলে ঘুরতে যাওয়া বরিশাল নগরের বাসিন্দা নাছরিন আফরোজ বলেন, প্রতি বছরই এমন সময়ে শাপলার বিলে ঘুরতে আসি। তবে এবারে সড়কের বেহাল দশার কারণে বেশ কষ্ট পেতে হয়েছে। তবে শাপলা বিলে এসে সব ক্লান্তি ভুলে গেছি। 

উজিরপুরের ইউএনও ফারিহা তানজিন বলেন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সাতলা বিল এলাকায় একটি আনসার ক্যাম্প স্থাপন এবং থাকার জন্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি ডাকবাংলো নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছে।

এ ছাড়া পর্যটন ও বেসামরিক মন্ত্রণালয় একটি রেস্ট রুমসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। পাশাপাশি নৌকা চলাচলের জন্যে একটি জেটি নির্মাণের প্রকল্পের কাজ শেষ দিকে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের জন্য ২৪ ফুট চওড়া ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা