বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:০৩ পিএম
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল ঘোষের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফের রাস্তা অবরোধ করেছে আইএইচটি'র শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল ঘোষের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফের রাস্তা অবরোধ করেছে বগুড়া ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টা থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৯ টা) শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের সাতমাথা-বনানী সড়কে অবস্থান করছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এসে গ্রেপ্তারের আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান করবেন বলে জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সজল ঘোষ বহিরাগত হয়েও দীর্ঘ একযুগ ধরে ছাত্রাবাসের ২১৮ নম্বর কক্ষ দখল করে রেখেছেন। সেখানে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিবেশ করে রেখেছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মারধর, সিট বাণিজ্য, মাদক সেবন এবং পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা নেন। তারা সজল ঘোষের দ্রুত গ্রেপ্তার, অধ্যক্ষের অপসারণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আন্দোলনের পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো মামলা না দিলে সজল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না। এরপর কলেজের এক শিক্ষার্থী বগুড়া সদর থানায় গত ২ সেপ্টেম্বর মামলা করলেও সজল ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাই আন্দোলনের ১৩তম দিনে আবারও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। সজল ঘোষ গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
এদিকে অবরোধের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। তাদের কয়েকজন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক, তবে এভাবে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তি। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেরত আন্দোলন-বিক্ষোভ করতে পারতো। সাধারণ মানুষ তো তাদের কোন ক্ষতি করেনি। তারা কেন মানুষের কষ্ট বুঝতে পারছে না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরাফত ইসলাম বলেন, ‘শহরের আইএইচটির এক শিক্ষার্থী সজল ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের ৩টি টিম কাজ করছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ২৯ আগস্ট থেকে সজল ঘোষের মুঠোফোন বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ২৯ আগস্ট বিকাল থেকে সজল ঘোষের বিরুদ্ধে নানা ধরণের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা।