যশোর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৩৭ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৪২ পিএম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত
নিয়োগ-বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সিনিয়র টেলিফোন অপারেটর মো. ফয়সাল কবিরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. হায়াতুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে শুধুমাত্র আগামী পাঁচ বছর ‘পদোন্নতি’ এবং তিনটি বার্ষিক ‘ইনক্রিমেন্ট’ স্থগিত করেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকতা আব্দুর রশিদ।
শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যবিপ্রবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের ৯৪তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে অভিযোগ-সংক্রান্ত কমিটি রিজেন্ট বোর্ডে প্রতিবেদন পেশ করে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুপুরে উপাচার্য ও রিজেন্ট বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনিছুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. আবু ইউসুফ মিয়া, যুগ্ম সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, সাভারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ড. সলিমুল্লাহ, সাভারের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম আসাদুজ্জামান, যশোরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাওছার উদ্দিন আহম্মদ, অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এমএ রশীদ, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব প্রমুখ।
তাদের বিরুদ্ধে আনা নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ফয়সাল কবিরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। রিজেন্ট বোর্ডের সভায় প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হাজ্জাজ বিন আজিজের চাকরি অবসান করার সিদ্ধান্ত হয়। আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) চৌগাছার মৃধাপাড়া কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে যবিপ্রবির পিটিআর বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল সাদিক সজীব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পরবর্তী সময়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটির ১১তম সভার সুপারিশক্রমে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
কর্মচারীকে বহিষ্কার ও কর্মকর্তাকে শুধুমাত্র পদোন্নতি স্থগিত করার ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে বারবার রিং দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।