সাইফুল হক মোল্লা, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:০১ পিএম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে যানজটে পড়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় স্কুল শিক্ষার্থীদের। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের প্রধান ১১টি প্রাথমিক, মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় ও চারটি কলেজের প্রায় ১০ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়ত পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে এসব শিক্ষার্থীর প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয় যানজট, বখাটেদের উৎপাত, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার। এতে তাদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহতসহ নানাভাবে মানসিক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা। সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী।
শহরের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশের মূল ফটক ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে চা, পান, সিগারেট ও লাকড়ির দোকান। এসব দোকানে বখাটেরা আড্ডা দেয়। এ ছাড়া আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবেও সড়কটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধ পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। একই কথা বলেন এসভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদালয়ের শিক্ষার্থীরাও। এ ছাড়াও তাদের সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে তীব্র যানজট।
একাধিক ছাত্রী জানায়, পুরাতন কোর্ট রোড সড়কে স্কুল ছুটির ও শুরুর সময় মেয়েরা প্রায়ই বখাটেদের দ্বারা নানা প্রকার টিটকারি ও টিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, স্টেশন রোড ও পুরাতন কোর্ট রোডে হাজার হাজার যান তথা অবৈধ অটোরিকশা, সিএনজি, ভ্যান, টমটম, ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনের কারণে স্বাভাবিকভাবে পথ চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, শহরের আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রেললাইন। কিন্তু রেলক্রসিংয়ের দুই জায়গায় গেট না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। তা ছাড়া দিনের বেলায় রেললাইনে মাদকসেবীদের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
শহরের জেলা স্মরণী উচ্চ বিদ্যালয়, হাসমতউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রায় একই সমস্যা ও অসুবিধার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করে থাকেন।
আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র বাকি বিল্লাহ, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের হাসান ফারুক, জেলা স্মরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের, জুয়েনা আক্তার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবিহা আক্তারসহ শিক্ষার্থীরা জানান, সমস্যার কথা বললে শিক্ষকরা কিছু ব্যবস্থা নিলেও পরে দুই দিন যেতে না যেতেই আবারও আগের অবস্থার সৃষ্টি হয়।
কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজের সম্মান শ্রেণির ছাত্রী ফৌজিয়া খানম, লুনা ইসলামসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আখড়া বাজার ব্রিজ, সৈয়দ নজরুল চত্বর ও বটতলায় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বখাটেদের উপস্থিতি ও তাদের নানা অশোভন অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ফলে তারা এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান চায়।
সরযূ বালা (এসভি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা জেসমিন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সত্য বলে দাবি করে জানান, এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান তারাও চান। সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল্লহ জানান, সড়ক মেরামত ও দোকানের বিষয়ে পৌরসভাকে পত্র দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ বলেন, বখাটে এবং ইভটিজারদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। অভিযোগ পাওয়ামাত্র আটক করা হবে।
কিশোরগঞ্জ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ সাদী বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা নানা দিক থেকে পিছিয়ে পড়বে।
সরকারি গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আ ন ম মুশতাকুর রহমান বলেন, কলেজের চারদিকে হাসপাতাল, অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। চারদিকেই সকাল থেকে লোকজনের প্রচণ্ড ভিড় লেগেই থাকে। যানজট তো নিত্যদিনের সাথি। বখাটেদের উৎপাত, যানজট, নানা ধরনের অপরাধীদের আগমনে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরের এলাকা অনেকটাই নিরাপদহীন। তাই এসব এলাকায় সকাল থেকেই একাধিক পুলিশি টহল ব্যবস্থা করতে হবে।
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুবেল মাহমুদ জানান, সমস্যার কথা শুনেছি। কখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে, এসব সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ছাত্রছাত্রীদের ভালো ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।