আমানত উল্যাহ, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:১২ পিএম
নদীভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয়দের বাড়িঘর ও আশ্রয়কেন্দ্র নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদী তীরবর্তী ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখ মানুষ প্রাণহানির শঙ্কায় বসবাস করছেন। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবনহানির ঝুঁকিতে পড়েন এসব এলাকায় মানুষ।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সূত্রে জানা যায়, কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, চরমার্টিন, চরলরেন্স, চরফলকন ও পাটারীরহাট এবং রামগতি উপজেলার চরআলগী, চররমিজ বড়খেরী, চরগাজীসহ ১২টি ইউনিয়ন এবং রামগতি পৌরসভা মেঘনার তীরে অবস্থিত। যার মধ্যে কমলনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকায় ১ লাখ এবং রামগতি উপজেলার একটি পৌরসভার ও ছয়টি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় ২ লাখ মানুষ বসবাস করছে। এসব এলাকার কয়েক লাখ মানুষের জন্য মাত্র ৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এসব দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষগুলো।
কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার ছায়েফ উল্যাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, বিচ্ছিন্ন দ্বীপচর শামছুদ্দিন, তালতলী, মতিরহাট ও নাছিরগঞ্জ গ্রাম নিয়ে গঠিত তার ইউনিয়নে প্রায় ২৭ হাজার মানুষ বসবাস করছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এ মানুষগুলোর নিরাপত্তায় কোনো আশ্রয়কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধ নেই।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির কমলনগর উপজেলা টিম লিডার সামছুদ্দোহা খোকন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অতি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলার চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, চরফলকন ও পাটারীরহাট ইউনিয়নের মেঘনা তীরের ৮০ হাজার মানুষের দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের জন্য দেড়শ আশ্রয়কেন্দ্রের প্রয়োজন। কিন্তু এখানে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ছয়টি।
রামগতি উপজেলার চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের চরগজারিয়া ও তেলিরচরে ২০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চরগুলোর চারপাশে কোনো বেড়িবাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নেই।
রামগতি পৌরসভার মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মেঘনার ভাঙনরোধে ও তীর রক্ষায় চরআলেকজান্ডার, চরআব্দুল্যাহ, কমলনগর-রামগতি প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাকি এলাকা উন্মুক্ত থাকায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকেই গেল।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) রামগতি উপজেলার টিম লিডার মাইন উদ্দিন খোকন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব এলাকায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় যে পরিমাণ আশ্রয়কেন্দ্র থাকার কথা, তা এখনও হয়নি। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এখানকার মানুষ।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার মেঘনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে দুই উপজেলার জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থাকবে না।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচিত্র রঞ্জন দাস জানান, ভেঙে যাওয়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর তালিকা করে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। নতুন আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, নদীভাঙনের কবলে পড়ে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র নদীতে বিলীন হয়েছে। যে কারণে এ ঝুঁকি আরও বেড়েছে। নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য তিনি প্রস্তাবনা দিয়েছেন।