× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিয়োগের আগেই চূড়ান্ত প্রার্থী

পঞ্চগড় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৩০ এএম

পাহাড়তলী উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

পাহাড়তলী উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের পাহাড়তলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচটি পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার আগেই জানা যাচ্ছে কোন পদে কে চাকরি পেতে যাচ্ছেন। আবেদনকৃত প্রার্থীদের পরীক্ষা দিতে আগ্রহ নেই বলে অনেকে জানিয়েছেন। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে একটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে একজন করে নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গতকাল বুধবার নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে বলে জানান। 

বিদ্যালয়ে চারটি পদে পূর্বেই নিয়োগ চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অর্থের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশে তা করেছেন। আবেদনকৃত প্রার্থী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে সহকারী প্রধান শিক্ষক, অপর সহকারী শিক্ষক আতিকুর রহমানের স্ত্রী আফরিন আক্তারকে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নুরু মিঞার ছেল আলমগীর হোসেনকে নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে আছে। এখন শুধু নামমাত্র পরীক্ষা নিয়ে প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। কিন্তু পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে কারও সঙ্গে রফাদফা না হওয়ায় গতকালের নিয়োগ পরীক্ষা অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়েছে।

ইয়ারপাড়া এলাকার ল্যাব অপারেটর পদে আবেদন করা ইশা মনি নামে এক পরীক্ষার্থীর বাবা ইউসুফ আলী বলেন, ‘এখানে নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির চারজন সদস্য মেয়ের চাকরির জন্য ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব দেন। এজন্যই মেয়ের চাকরি হবে না।’

সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করা কায়েতপাড়া এলাকার আসমা খাতুন বলেন, ‘এখানে চাকরি হবে না। কারণ পূর্ব থেকে কমিটি অন্য একজনের নাম সিলেক্ট করে রেখেছে বলে জেনেছি। তাই পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ নেই।’

পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে আবেদন করা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখানে নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর জেনেছি টাকা লাগবে। পরে শুনেছি একজনকে আট লাখ টাকায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে, তবু তালিকায় অন্য প্রার্থীর নাম রাখা হচ্ছে।’ 

নিরাপত্তাকর্মী পদে আবেদন করা ফরহাদ হোসেন নামে একজন বলেন, ‘এখানে নীরব নিয়োগ ডাকাতি হচ্ছে। স্কুল কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি নিরাপত্তাকর্মী পদের জন্য ১২ লাখ দিতে চেয়েছেন অনেকে। এমন হলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হবে না। কারণ এত টাকা তো দিতে পারব না। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেতে চাই, টাকা দিয়ে নয়।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘একটি কুচক্রীমহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। পরীক্ষায় অংশ না নিতে অনেক পরীক্ষার্থীর মাঝে বিভ্রান্তিকর এসব তথ্য ছড়িয়েছে। আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ শেষ করতে চাই।’ তবে গতকালের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনির হোসেন বলেন, ‘এখানে কোনো নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ নেই। মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।’ 

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আকতার বলেন, ‘নিয়োগের নামে বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই। নিয়োগের আগেই নাম ফাঁস হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা