× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংস্কারের অভাবে বেহাল ঈশ্বরদী বাস টার্মিনাল

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:২৪ এএম

ঈশ্বরদীর খায়রুজ্জামান বাবু টার্মিনালের দুই পাশেরই ইট, সুরকি উঠে খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে কাদা ও পানিতে একাকার। প্রবা ফটো

ঈশ্বরদীর খায়রুজ্জামান বাবু টার্মিনালের দুই পাশেরই ইট, সুরকি উঠে খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে কাদা ও পানিতে একাকার। প্রবা ফটো

সংস্কারের অভাবে পাবনার ঈশ্বরদীর খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে যাত্রী ও পরিবহন ব্যবসা-সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

পরিবহন মালিক ও কর্মচারীদের মতে, ঈশ্বরদীর এ বাস টার্মিনাল দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন অর্ধশতাধিক বাস-মিনিবাস চলাচল করে। কিন্তু নির্মাণের পর সংস্কার না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীসাধারণ, চালকসহ সংশ্লিষ্টদের। তাই দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঈশ্বরদী পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে দুই একর জায়গা ইজারা নিয়ে শহরের রেলগেট এলাকায় ১৯৯৫ সালে বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এক কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করে। নির্মাণের পর ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নামকরণ করা হয়। পরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়াত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুজ্জামান বাবুর নামে ‘খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল’ নামকরণ করে। পরে ২০০৭-০৮ সালে টার্মিনাল ভবনের ছাদের সংস্কারসহ কয়েকটি কংক্রিটের বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনালের দুই পাশেরই ইট, সুরকি উঠে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে কাদামাটি হয়ে গেছে। বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে দাঁড় করানো বাসের নিচেও কাদা ও পানিতে একাকার। যাত্রী, চালক ও স্থানীয়রা কাদাপানি মাড়িয়েই বাসে ওঠানামা করছে। এতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জমে থাকা নোংরা পানি আর কাদা মাড়িয়ে টিকিট কাউন্টারে যেতে হয়। যাত্রীবাহী বাস মাঝে মধ্যেই খানাখন্দে পড়ে অকেজো হয়ে পড়ে। এতে বিপাকে পড়তে হয় যাত্রীসহ চালকদের। 

এ ছাড়া টার্মিনাল ভবনের অবস্থাও বেহাল। ছাদ ড্যামেজ হয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে, পলেস্তারা খসে মরিচা ধরা রড বেরিয়ে গেছে, দেয়ালেও দেখা দিয়েছে ফাটল। আশপাশে ময়লা ও দুর্গন্ধে সেখানে কোনো যাত্রীই যান না। টার্মিনাল ভবনের শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শৌচাগারের দেয়ালে জন্মেছে পাকুর গাছ। সেখানে কয়েকজন ভাসমান মানুষ ও মানসিক প্রতিবন্ধীরা অবস্থান করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে একমাত্র ক্যান্টিনও। দেখে মনে হয় কোনো পরিত্যক্ত ভবন। 

টার্মিনালের অভ্যন্তরের দোকান ও বাস কাউন্টার থেকে বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি ভাড়া আদায় করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে প্রতিবছর ইজারা বাবদও কয়েক লাখ টাকা রয়েছে। এরপরও দীর্ঘদিন টর্মিনালের কোনো সংস্কার করছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীসাধারণসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। 

বাসযাত্রী জাকির হোসেন বকুল বলেন, ‘ঈশ্বরদী বাস টার্মিনালের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বাস টার্মিনাল কাদাপানিতে একাকার, এটি মেনে নেওয়া যায় না। এখানে চলাচল করা খুবই কষ্টকর।’

স্থানীয় আসাদুর রহমান বীরু বলেন, ‘জনদুর্ভোগের অপর নাম ঈশ্বরদী বাস টার্মিনাল। যেখানে প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে কাউন্টার পর্যন্ত যেতে যাত্রীসাধারণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্মাণের ২৭ বছর পরেও সংস্কার করে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সংস্কার করে আধুনিক বাস টার্মিনালে পরিণত করার অনুরোধ করছি।’ 

টর্মিনালে হেলেদুলে আসছিল সুপার সনি নামে একটি বাস। বাসের চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘টার্মিনালের খানাখন্দে বাসের চাকা পড়ে অনেক সময় কাদায় আটকে যায়। তখন আমাদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়। খানাখন্দ ভরাট করার জন্য আমরা বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষকে বলেছি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করছেন না।’

পাবনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির চেইন মাস্টার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘১৯৯৫ সালে বাস টার্মিনাল উদ্বোধনের পর আর কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে টার্মিনালের অনেক জায়গায় ইটের সলিং উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’

কাউন্টার মাস্টার রেজাউল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ এ টার্মিনালের বেহাল দশা। হালকা বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা আর কাদামাটি সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের অনেক কষ্ট করে কাউন্টার ও বাসে ওঠানামা করতে হয়।’

জানতে চাইলে ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা বলেন, ‘পৌরসভার বাজেট না থাকায় এটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। খুব শিগগিরই খানাখন্দ ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করা হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা