× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অবৈধ করাতকলে উজাড় হচ্ছে সামাজিক বনায়ন

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:০২ পিএম

অবৈধ করাতকলে উজাড় হচ্ছে সামাজিক বনায়ন।

অবৈধ করাতকলে উজাড় হচ্ছে সামাজিক বনায়ন।

উপজেলার ৫০টি করাতকলের মধ্যে ৪০টির নেই বৈধ কাগজপত্র। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত ও সামাজিক বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে এসব করাতকল। ফলে উজাড় হচ্ছে বনজ সম্পদ। এভাবে চলতে থাকলে এখানকার সামাজিক ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অস্তিত্ব থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জলবায়ু গবেষক ড. আশরাফুল বলেছেন, বন উজাড়ের ফলে ধ্বংস হচ্ছে বন্যপ্রাণী; হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।

রঘুরন্দন রেঞ্জ বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত করাতকলের সংখ্যা মাত্র ১০টি। অপরদিকে লাইসেন্সবিহীন পরিচালিত করাতকল ৪০টির বেশি। বন বিভাগের আইন অনুযায়ী, বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে করাতকল স্থাপন করা নিষেধ। তারপরও এই এলাকার মধ্যে রয়েছে ২০টির বেশি করাতকল। সংরক্ষিত সামাজিক বনায়নের ভেতর, বনঘেঁষে, এমনকি বন কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের কাছেই স্থাপন করা হয়েছে অবৈধ করাতকল।

সামাজিক বনায়ন বাগানের সভাপতি উসমান মিয়া ও আব্বাস মিয়া জানান, সামাজিক বনায়নের বন থেকে চোরাই পথে বিভিন্ন গাছ অবাধে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অবৈধ এসব করাতকলে। সাবেক এক রেঞ্জ কর্মকর্তা বাগান থেকে অপরিপক্ব অনেক গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন উসমান মিয়া ও আব্বাস মিয়া। এ কারণে তাদের সামাজিক বনায়ন কিছুতেই সফল হচ্ছে না বলে জানান তারা। এদিকে বৈধ করাতকল মালিকদের অভিযোগÑ অবৈধ করাতকলের কারণে তাদের কলগুলো ভালোভাবে চলছে না।

করাতকল বিধিমালা ২০১২-এ বলা আছে, কোনো সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে এমন স্থান থেকে কমপক্ষে ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যাবে না। সরকারি বনভূমির সীমানা থেকে কমপক্ষে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে এটা নিষিদ্ধ। অথচ এই নির্দেশনা মানছে না কেউ। বিধি-বহির্ভূতভাবে যত্রতত্র বসানো হয়েছে করাতকল।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রেঞ্জ অফিস ও বিট অফিসের নাকের ডগায় করাতকলে দিন-রাত চলছে কাঠ চেরাই। রেললাইনের পাশে, হাইওয়ের পাশে রেঞ্জ কর্মকর্তার অফিসের ১০০ গজ দূরেও দেখা গেছে একই দৃশ্য। এ নিয়ে কথা হয় বন বিভাগের রঘুরন্দন রেঞ্জ কর্মকর্তা খলিলুর রহমানের সঙ্গে। অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, তিনি উল্টো এ বিষয়ে পত্রিকায় নিউজ না করার অনুরোধ করেন এই প্রতিবেদককে। 

উপজেলা বন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মন্জুর আহসান বলেন, অবৈধ করাতকল বন্ধের জন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রেখেছি। ইতোমধ্যে আন্দিউড়া ইউনিয়নে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের পাশে থাকা একটি করাতকল বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা