গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮:৪৯ পিএম
দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ছাড়তে চান ৩৫০ নারী।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পারাপারের সংকটকে ঘিরে ভিড় জমত অসংখ্য গাড়ি। এ সংকটকে পুঁজি করেই টিকে ছিল দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লী। পদ্মা সেতু চালুর পর কমে গেছে সেখানে মানুষের আনাগোনা। এতে বিপাকে পড়েন যৌনপল্লীর বাসিন্দারা। উপার্জন কমে যাওয়ায় যৌনকর্মীদের অভাব-অনটনে দিন কাটছে। করোনা মহামারির সময় থেকে শুরু হয় তাদের মানবেতর জীবন। পদ্মা সেতু চালুর পর সেই সংকট আরও প্রকট হয়। বাধ্য হয়ে এখন ৩৫০ জন যৌনপল্লী ছাড়তে চান।
জানা গেছে, যৌনপল্লীতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে যৌনকর্মী ১৩০০ জন। এর মধ্যে ১০৫০ জন নিয়মিত। বাকিরা অনিয়মিত। প্রায় ৩০০ বাড়ি রয়েছে। শিশুর সংখ্যা ৬০০। বর্তমানে সাড়ে ৩৫০ জন বয়স্ক নারী রয়েছেন। তারা যৌনপল্লী ছাড়তে চান।
পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, এখন আর সেই আগের মতো ভিড় নেই। সুনসান নীরবতা চারদিকে। একসময় পল্লীর প্রধান গলিতে ভিড় লেগে থাকলেও সেই গলি এখন অনেকটাই ফাঁকা। মানুষের আশায় নারীরা সেজে ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে এখন আর লোকজন সেভাবে আসে না বলে জানান বেশ কয়েকজন যৌনকর্মী। সেখানে কথা হয় ফাতেমার (ছদ্মনাম) সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘দিন-তারিখ মনে নেই কবে আসছিলাম। আমার বাড়ি ঝিনাইদহ। তিন সন্তান রয়েছে। তারা এই জগৎ থেকে অনেক দূরে। আমি একাই পল্লীতে আছি। আমার বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। পল্লীর ভেতরে মানুষের বাড়িতে কাজ করে খাই। কাজের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এখান থেকে চলে যেতে চাই।’
ছন্দা নামে আরেকজন বলেন, পল্লীর অবস্থা একসময় ভালো ছিল। বর্তমানে খুব খারাপ। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটে লোকজন আসে না। সবাই পদ্মা সেতু হয়ে যায়। তাই আমাদের কষ্ট শুরু হয়েছে। আমরা এখন চলে যেতে চাই। কিন্তু আমাদের তো যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। সরকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে বেঁচে থাকতে পারব।
আরেক যৌনকর্মী বলেন, ‘দৌতলদিয়া ফেরিঘাটে যখন যানজট লেগে থাকত তখন ভালো ছিলাম। লোকজন আসত পল্লীতে। কিন্তু এখন কেউ খবর নেন না। আমরা এখান থেকে চলে যেতে চাই। সরকার যদি আশ্রয়ণের ঘরে থাকার জায়গা করে দিতেন আমরা চলে যেতাম।’
দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে কাজ করছে ‘অসহায় নারী ঐক্য সংগঠন’।
সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমুর বেগম বলেন, পল্লীর মধ্যে ৩৫০ জন বয়স্ক নারী আছেন। তাদের চরম খাদ্য সংকট শুরু হয়েছে। তারা এখন চলে যেতে চান। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে যারা আছেন তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে।
ইউএনও জাকির হোসেন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী দৌলতদিয়া। পদ্মা সেতু চালুর পর এখানে ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। পল্লীর সবাই আমাদের সমাজের অংশ। সেখানে কয়েকটি সংস্থা কাজ করে। আমি নির্দেশনা দিয়েছি, ৫০ বছরের ওপরের নারীদের তালিকা প্রস্তুত করতে। চিন্তা-ভাবনা করছি, কীভাবে তাদের পুনর্বাসন করা যায়।