শরীয়তপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:৩০ পিএম
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন। প্রবা ফটো
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে অডিট কর্মকর্তাদের নামে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সেই টাকা ফেরত দেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ অভিযোগ তুলেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডামুড্যা ও জাজিরা উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একটি অডিট টিম আসে। সেই অডিট টিমের কথা বলে ডামুড্যা উপজেলা প্রত্যেকটি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার করে টাকা উত্তোলন করার জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেন উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন। এতে প্রায় ৬৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে টাকা ফেরত দেন তিনি।
কয়েকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জোর করে বিভিন্ন ইস্যুতে টাকা আদায় করেন। অডিট আসবে সে কথা বলে আমাদের কাছ থেকে এক হাজার করে টাকা নিয়েছেন। আবার কী কারণে ফেরত দিয়েছেন সেটাও জানি না।’
২৯ নং কেউর ভাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ফারুক আলম বলেন, ‘অডিটের কথা বলে এক হাজার টাকা নিয়েছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা। আবার সেই টাকা ফেরতও দিয়েছেন। কেন ফেরত দিয়েছেন, সেটা জানি না।’
ডামুড্যা উপজেলার শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি অডিট টিমের জন্য টাকা উত্তোলন করেছিল। তারা (অডিট টিম) টাকা নেবে না, সেজন্য ফেরত দিয়েছেন। তার (শিক্ষা কর্মকর্তা) সঙ্গে কথা বলে এতটুকু জানতে পেরেছি। এর বেশি কিছু জানি না।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য আনতে গেলে তিনি সাংবাদিক আসার কথা শুনে দ্রুত অফিস থেকে চলে যান। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবা খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন দেখার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একটি অডিট টিম এসেছিল। এই উদ্দেশ্যে কোনো টাকা উত্তোলনের করার সুযোগ নেই। টাকা উত্তোলন করেছে এমনটা আমার জানা নেই। শিক্ষা কর্মকর্তা টাকা উত্তোলন করেছেন, এমন লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’