গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:১২ পিএম
গাজীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার। প্রবা ফটো
গাজীপুর মহানগরীর লক্ষ্মীপুরা মারিয়ালি এলাকা থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার মোতাওয়াল্লি সোলায়মান হোসেন তৌকিকে (২৬) ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হেরোইনসহ আটক দেখিয়ে মাদক মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন। রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার। এ সময় তৌকির পিতা-মাতা, তিন বছরের সন্তান ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাতেমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী তার পিতার ওয়াকফকৃত হোসেনিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোতাওয়াল্লি। আমাদের এলাকায় মাদকের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় কাউন্সিলর মাদক নির্মূলের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির ১নং সদস্য হয়ে এলাকার লোকজন নিয়ে মানববন্ধনসহ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি। এতে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। আমার স্বামীর তৎপরতায় কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলে তারা তার বিরুদ্ধে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। কিন্তু আমার স্বামী নির্দোষ হওয়ায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেয়। এরপরও তাকে নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে মাদক কারবারিরা।
ফাতেমা আরও বলেন, গত ২ আগস্ট রাতে আমার বাসার পাশেই একটি দোকানে বসা ছিলেন সোলায়মান হোসেন। এ সময় লোকজনের সামনেই কালো কাপড় পরা ৫-৬ ব্যক্তি অস্ত্র ধরে আমার স্বামীর হাত-পা বেঁধে একটি হায়েস গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এক ঘণ্টা পর তার বন্ধু রিফাতকে ফোন দিয়ে বলা হয়, ডিবি পুলিশ ধরে এনেছে। পরে আমরা গাজীপুর সদর থানা, ডিবি, সিআইডিসহ অন্যান্য সংস্থার অফিসে খোঁজ নিলে তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়। এরপর ওইদিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমার স্বামীর বোন হামিদাকে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে বলা হয়, উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাহপুর ১নং সেক্টর থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ সোলায়মান হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি এলাকার মাদক কারবারিরা একত্র হয়ে পুলিশকে প্রভাবিত করে ও মিথ্যা মামলা সাজিয়ে সোলায়মানকে কারাগারে পাঠিয়েছে। আমি একজন অসহায় নারী, ন্যায়বিচারের আশায় শিশুসন্তান নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমি আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার বরাবরও আবেদন করেছি। আমি একটি সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন আলম বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত চলছে। মামলার বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন বাদী।’ এ বিষয়ে জানতে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই স্বাধীন ইশতিয়াক রুবেলের সঙ্গে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।