খুলনায় সাংবাদিকের স্ত্রীর মৃত্যু
খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৫৪ পিএম
’বিএমএ’-এর প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছে নিহতের স্বজনরা। প্রবা ফটো
খুলনায় সাংবাদিক মামুন খানের স্ত্রী শায়লার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক ডা. সানজিদা হুদা সুইটি ও ডা. দিলিপ কুমার কুণ্ডুকে দায়মুক্তি দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা।
রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা প্রত্যাখ্যান করে বিএমএ সভাপতি ডা. বাহারুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজকে চিঠি দিয়েছে নিহতের স্বজনরা।
চিঠি দেওয়ার সময় নিহতের স্বামী সাংবাদিক মামুন খান, সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ লুৎফুল হক মিঠু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, দৈনিক খবরের ব্যুরো প্রধান তিতাস চক্রবর্তী, খুলনা টাইমসের সম্পাদক সুমন আহমেদ, দৈনিক জন্মভূমির চিফ ফটো সাংবাদিক দেবব্রত রায়, সাংবাদিক দেবনাথ রনজিৎ কুমার, একুশে টিভির বিভাগীয় প্রধান মহেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক মামুন খান জানান, বিএমএ কর্তৃপক্ষের কাছে শুধু চিকিৎসকসহ ক্লিনিকের কয়েকজনের পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ করা হলেও বিএমএ-সংশ্লিষ্টরা নিজেদের দোষ ঢাকতে শায়লার মৃত্যুর কারণ খুঁজতে তৎপরতা দেখিয়েছেন। বিএমএ তাদের প্রতিবেদনে এনেসথেসিয়ার সময় রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে—দুর্ভাগ্যজনকভাবে হার্ট চালু হতে দেরি হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন স্বল্পতায় যে ক্ষতি হয় তার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে রোগীর মৃত্যু হয়। প্রতিবেদনে এ ধরনের মনগড়া ও পক্ষপাতমূলক গল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্টরা অভিযুক্ত ডা. সানজিদা হুদা সুইটি এবং ডা. দিলিপ কুমার কুণ্ডুকে শায়লার মৃত্যুর দায় থেকে মুক্তি দেওয়ার পাঁয়তারা করেছেন। যার মাধ্যমে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বরাবর করা ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর দায়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মামুন বলেন, ‘ভুল চিকিৎসায় শায়লা শারমিনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৫ মে বিএমএ কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ তুলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা না করে তাদের বাঁচানোর চক্রান্ত সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ মেনে নেবে না। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাসহ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
পেটে ব্যথাজনিত কারণে শায়লা শারমিনকে ১৩ মার্চ গরীব নেওয়াজ ক্লিনিকের গাইনি চিকিৎসক ডা. সানজিদা হুদা সুইটির কাছে নেওয়া হয়। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ওভারিয়ান ছিস্টে আক্রান্ত বলে জানান। দ্রুত অপারেশনের পরামর্শও দেন। তা নাহলে ছিস্ট ফেটে ইনফেকশন হয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানান। তিনি এ-ও জানান, খুবই সাধারণ অপারেশন, সময় লাগবে ২০-২৫ মিনিট। পরের দিন শায়লাকে গরীব নেওয়াজ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ১৫ মার্চ দুপুরে শায়লাকে অপারেশন থিয়েটারে নিলে মামুন স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেওয়ার একপর্যায়ে চিকিৎসক দিলিপ কুণ্ডু মামুনের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর ডা. দিলিপসহ ক্লিনিকের লোকেরা শায়লাকে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করেন এবং আইসিইউতে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সেখানে আট দিন এবং শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে তিন দিন লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২৬ মার্চ সকালে শায়লা মারা যান।