গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:২৩ পিএম
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৯ পিএম
দুই জেলার মালিক সমিতির দ্বন্দ্ব আর শ্রমিকদের হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে চার দিন ধরে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রশাসন বলছে, দ্বন্দ্ব দুই জেলার বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতির মধ্যে। তাই তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করে নিতে বলা হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, এই উদ্যোগ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নেওয়ার চাইতে প্রশাসন নিলে দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব।
জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট বিকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের বাস শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ রুটে রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরের বাসগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর জেরে পরদিন সকালে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর বাসগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ জের ধরে পরবর্তী সময়ে এ রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এই অবস্থায় চার দিন ধরে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার দিক থেকে আসা বাসগুলো ফরিদপুরের সীমান্তবর্তী সাইন বোর্ড এলাকা পর্যন্ত যাচ্ছে। যাত্রীদের সেখানে নেমে কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে গিয়ে ফরিদপুরের সীমানা থেকে মাহেন্দ্র কিংবা ইজিবাইকে করে ফরিদপুর যেতে হচ্ছে। এতে মালামাল নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ পথটুকুতে মাহেন্দ্র কিংবা ইজিবাইকে তাদের ভাড়াও গুনতে হচ্ছে বেশি।
ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রনি বলেন, বড়পুল (রাজবাড়ী) মোড়ে এসে দেখি বাস বন্ধ। মাহেন্দ্র, অটোতেও অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে।
আরেক শিক্ষার্থী সোহান খানও বললেন একই দুর্ভোগের কথা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই জেলার পরিবহন মালিকরা গত ৩০ আগস্ট বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা নিজ নিজ জেলার শেষ সীমানা পর্যন্ত বাস চালাবেন। তবে রাজবাড়ী এ সিদ্ধান্ত মেনে ফরিদপুরের সীমান্ত পর্যন্ত বাস চলাচল শুরু করলেও ফরিদপুর থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের দাবি, তাদের কোনো হিস্যা না দিয়েই ফরিদপুরের বাস মালিকরা এ রুটে বাস চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে তাদের হিস্যার ব্যাপারে বারবার বলা হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।
ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত বুধবার রাতে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই জেলার বাসগুলো নিজ নিজ জেলার সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত যাবে। কিন্তু পরে চিন্তা করে দেখা যায়, এতে যাত্রী কম হবে, তেল খরচ উঠবে না এবং যাত্রীদের ভোগান্তি হবে। এ বিবেচনা করে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’
রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন বলেন, ‘গত ২৯ আগস্ট বিকালে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর একটি বাস ফিরিয়ে দেয় সেখানকার বাস মালিক সমিতি। এরই প্রতিবাদে গত ৩০ আগস্ট সকাল থেকে কোনো বাস ফরিদপুরে যাবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সিদ্ধান্ত হলে বাস চলাচল শুরু করা হবে।’