আতিকুল ইসলাম, সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:০৯ পিএম
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:৩৯ পিএম
অবৈধ সিসা কারখানায় বাড়ছে দূষণ। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটকড়িয়া এলাকা। প্রবা ফটো
রাত ৮টা বাজলেই শুরু হয় সিসা গলানোর কাজ, চলে ভোর পর্যন্ত। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে পুড়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসল, মরে যাচ্ছে গাছপালা, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। আশপাশের এলাকার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে বসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ সিসা কারখানা। ভুক্তভোগীরা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেও ফল পাচ্ছেন না।
চিকিৎসকদের অভিমত, কারখানার এ বিষাক্ত ধোঁয়া ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ধরনের পদার্থ মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া কারখানার আশপাশের ঘাস কোনো পশু খেলে অসুস্থ কিংবা মারাও যেতে পারে।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চার বছর আগে স্থানীয় জহিরুল ইসলাম ও অরবিন্দ মন্ডল নামে দুই ব্যক্তি বলধারা ইউনিয়নের আটকড়িয়া এলাকায় সিসা কারখানাটি নির্মাণ করেন। বড় লোহার গেট, চতুর্দিকে প্রাচীরযুক্ত উঁচু টিনের ঘর। টিনের চাল ফুঁড়ে বেরিয়েছে একটি উঁচু চিমনি। ঘরের মধ্যে গর্ত করে মাটির চুলার মতো চুল্লি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ কারখানাটি কয়েক বছর আগে প্রশাসন সিলগালা করে দিলেও থেমে নেই কর্মযজ্ঞ। রাত ৮টা বাজলেই শুরু হয় সিসা গলানোর কাজ, চলে ভোর পর্যন্ত।
রামকান্তপুর এলাকার গোসাই দাস সরকার বলেন, তিন-চার বছর আগে সিসা কারখানাটি শুরু হয়। একবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কারখানাটি সিলগালা করে দিলেও কার্যক্রম থেমে নেই। বিষাক্ত ধোঁয়ায় মানুষ রাতে ঘুমাতে পারে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় নদের চাঁদ মন্ডল বলেন, সিসা পোড়ানো ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে গ্রামের সবার শরীরে আস্তে আস্তে সিসা ঢুকে যাচ্ছে। গুরুদাস, চায়না রানী সরকার, স্বপন মন্ডল নামে তিন ব্যক্তির শরীরে ক্যানসার ধরা পড়েছে। ডাক্তার বলেছেন, রক্তে সিসা মূত্রথলির ক্যানসারের অন্যতম কারণ। এ সিসা কারখানাটি আমাদের আস্তে আস্তে হত্যা করছে।
স্থানীয় কবির হোসেন বলেন, সিসা কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধানক্ষেতে ফলন হয় না। কারখানার মালিক অরবিন্দ মন্ডল বলেন, ‘আমি সিসা কারখানাটির সাথে বর্তমানে জড়িত নই। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ। এ ছাড়া কাগজপত্রেরও মেয়াদ নেই। আপনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি ওই সিসা কারখানায় রাতে কাজ চলে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে সহকারী কমিশনার আব্দুল কাইয়ূমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।