মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ন্যূনতম মজুরি গেজেট বাতিল দাবিতে মানববন্ধন করেন চা শ্রমিক-কর্মচারীরা। প্রবা ফটো
নিম্নতম মজুরি বোর্ড প্রণীত গেজেট প্রত্যাখ্যান করেছেন চা-শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এটি বাতিল বা সংশোধনের দাবি জানিয়ে শুক্রবার ( ১ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। সকাল ৯টায় শমসেরনগর চা-বাগান পঞ্চায়েত ও চা-শ্রমিক কর্মচারী ব্যানারে বাগানের অফিসের গেটের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় শমশেরনগর, কানিহাটি, দেওছড়া, ডবলছড়া ও বাঘিছড়া চা-বাগানের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশ নেন। এদিকে শ্রীমঙ্গল শহরের গুহ রোডে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একই দাবি জানিয়েছে দেশের চা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন (বিটিইএসএ)।
চা-শ্রমিক বড় সর্দার এমএ আহাদের সভাপতিত্বে ও লছমন মাদ্রাজির সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন শমশেরনগর বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোপাল কানু, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মনু দলই ভ্যালির সম্পাদক নির্মল দাশ পানিকা, স্টাফ ইউনিয়নের মনু অঞ্চলের সভাপতি তানভির হাসান, স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়া, মাসিক চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক চা-শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, নারী নেত্রী আশা অরনাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক সম্পাদিত গেজেট সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক উপায়ে প্রণীত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী চা-শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত গেজেট সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের (ত্রিপক্ষীয়) আলাপ আলোচনায় সম্পাদিত হয়। কিন্তু এই গেজেটটি শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়াই গৃহীত হয়েছে। গেজেটটিতে প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে চা-শ্রমিকদের মজুরি মাত্র ১৭০ টাকা। পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি হলে মজুরি বাড়বে মাত্র ৮.৫ টাকা। আমরা দেখেছি কয়েক বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বা তিনগুণ হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা সামনের সময়ে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়বে। এ অবস্থায় মাত্র পাঁচ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি চা-শ্রমিকদের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতারণা। শুধু তাই নয়, গেজেট অনুযায়ী মজুরি প্রশ্নে শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনা সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক। অবিলম্বে চা-শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী গেজেট বাতিল করে ৫০০ টাকা মজুরি প্রণয়ন ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এদিকে শ্রীমঙ্গলে বিটিইএসএ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘প্রকাশিত এই চূড়ান্ত গেজেটে চা-শ্রমিক ও চা-বাগান কর্মচারীদের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পূর্বাবস্থা থেকে খর্ব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই গেজেট প্রচলিত শ্রম আইন ও বাংলাদেশীয় চা সংসদের (বিসিএস) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিনামার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।’ তিনি বলেন, ‘এই গেজেট বাতিল বা সংশোধনের জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আন্দোলন ও আইনের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিটিইএসএর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. আমিনুর রহমান, সহসভাপতি শেখ কাওছার মিয়া ও কংকন জ্যোতি ভট্টাচার্য, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ সুরঞ্জিত দাশ, প্রচার ও সমাজসেবা সম্পাদক ইব্রাহিম মিয়া সোহেল, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রাসেলসহ আঞ্চলিক কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।