রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৩ ২৩:২৫ পিএম
রাজবাড়ীর কালুখালীতে যৌতুক না পেয়ে এক নারীকে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ব্লেড দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সোমবার দুপুরে গোয়ালপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে চিকিৎসকের দেওয়া ঘুমের ওষুধের ওভার ডোজ খাওয়ানো হয় মোছা. আয়শা খাতুনকে। এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময় বাড়ির লোকজন হাত, পা ও মুখ চেপে ধরে ব্লেড দিয়ে তার দুই পায়ের তালু, দুই হাত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করে।
এ সময় তাকে কথা বললে গলা কেটে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। আয়শা বিষয়টি তার মা রহিমা বেগমকে জানান। তিনি এসে বুধবার আয়শাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় আয়শার স্বামী গিয়াসউদ্দিনকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নামে কালুখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রহিমা বেগম। অন্য অভিযুক্তরা হলেন পলাশ, পিয়াস, রাসিদুল ইসলাম ও আয়শার শাশুড়ি।
স্থানীয় লোকজন জানায়, সাত বছর আগে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণদিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে আয়শার বিয়ে হয় কালুখালীর মদাপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আকবর মোল্লার ছেলে গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে আয়শাকে স্বামীসহ তার পরিবার নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। কয়েকবার স্থানীয়ভাবে বিচার করে আয়শাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী আয়শা বলেন, ‘আমাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আমাকে মেরে ফেলার জন্য হাত, পা ও গলা চেপে ধরে ব্লেড দিয়ে পলাশ, পিয়াস, রাসিদুল ইসলাম ও আমার শাশুড়ি আমাকে জখম করেছে।’
রহিমা বেগম বলেন, ‘আয়শাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় মারধর করত। আমরা গরিব মানুষ যৌতুক দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নাই। আমার মেয়েকে যারা মেরে ফেলতে চেয়েছে তাদের বিচার চাই।’
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ আব্দুল হান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে পায়ের আঘাতের ক্ষত দেখে মনে হচ্ছে ধারালো কিছু দিয়ে কেউ তার পায়ে আঘাত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রাণবন্ধু চন্দ্র বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা রহিমা বেগম এসে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।