প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৩ ২২:৩০ পিএম
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৩ ২২:৪০ পিএম
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চর বালাডোবা গ্রামে প্রায় ২৫ টি পরিবার এভাবেই পানিতে ভাসছে। প্রবা ফটো
যমুনা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী ও কুড়িগ্রামের মানুষ। জামালপুরে যমুনার পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ইসলামপুরের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক ও ৩টি মাধ্যমিক স্কুলের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জামালপুরে যমুনার পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার হাসানপাড়া এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে স্থাপিত ‘স্পার’-এর গোড়ায় ৩০ মিটার ধসে গেছে। সিরাজগঞ্জেও যমুনার পানি বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যদিকে নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকশ পরিবার। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
জামালপুরে যমুনার পানিবৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ
জামালপুরে যমুনা নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের আগের ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেশকিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি ওঠার কারণে ইসলামপুরে ২৫টি সরকারি প্রাথমিক ও ৩টি মাধ্যমিক স্কুলের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পানি বাড়ায় ধানক্ষেত, সবজিক্ষেত ও বাড়িঘরে পানি এসে গেছে। রান্নাবান্নাসহ গো-খাদ্যের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। তাই সাময়িক সময়ের জন্য কিছু কিছু বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় পাঠদান শুরু হবে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির গতি তীব্র নয়। শুক্রবার থেকে পানি কমতে থাকবে। তাই এখনই বড় ধরনের বন্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৫ আগস্ট থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গত বুধবার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এতে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলের বেশকিছু ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, বন্যার পানি প্রবেশ করায় যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে রোপা আমন, আখ ও সবজির ক্ষেতসহ ৫০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পানিতে এখনই ফসলের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, নদী তীরবর্তী বেশকিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে এখনও কোনো এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা মোকাবিলার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সারিয়াকান্দিতে যমুনায় ভেঙেছে ৩০ মিটার স্পার
উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে বগুড়ায় যমুনা এবং তার পাশের বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি গতকাল বেলা ৩টায় বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া পাশের বাঙালি নদীর পানি বিপদসীমা থেকে মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
যমুনা নদীর পানিবৃদ্ধির কারণে তীরসংলগ্ন এবং চরাঞ্চলের ৭৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সারিয়াকান্দির হাসনাপাড়া এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে নির্মিত স্থাপনা ‘স্পার’-এর (হাসনাপাড়া-২ নং স্পার হিসেবে পরিচিত) গোড়ায় ৩০ মিটার ধসে গেছে। বুধবার রাতে সেখানে ধস দেখা দেওয়ার পর নদীর তীরবর্তী লোকজনের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক ঘটনাস্থলে যান এবং মাইকিং করে স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করেন। পরে পাউবোর পক্ষ থেকে স্পার-এর গোড়ায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়।
হাসনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্পারটি রক্ষা করা না গেলে ওই এলাকায় শতাধিক বসতবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তবে পাউবো কর্মকর্তারা এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বালুর বস্তা ফেলে আপাতত ধস ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
এদিকে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম গতকাল দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা স্পারটিতে যাতে আর নতুন করে কোনো ধসের সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পাউবোর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইফুল ইসলাম জানান, পানিবৃদ্ধির কারণে মোট ১১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া ১২ হাজার ২৫০টি পরিবারের ৭৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের কেউ কেউ স্থানীয় বাঁধ এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উঁচু এলাকায় পাঠদান করানো হচ্ছে। যমুনা তীরবর্তী এলাকার পাশাপাশি উপজেলার চালুয়াবাড়ি, কাজলা, কর্ণিবাড়ি, বোহাইল, হাটশেরপুর, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কামালপুর এবং সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের ১১৩টি চরে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন চরাঞ্চলের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
পাউবো বগুড়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, পানিবৃদ্ধির কারণে যমুনা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধক স্থাপনাসহ কয়েকটি স্থানে ধস এবং ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে দ্রুত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
নাজমুল হক বলেন, হাসনাপাড়া-২ নং স্পারে ধস ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া যমুনার ভাটিতে কামালপুর ইউনিয়নের ইছামারা এবং ফকিরপাড়া এলাকায় দেখা দেওয়া নদীভাঙনও এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উজানে যে পরিমাণ পানি রয়েছে তাতে আরও ২-৩ দিন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করবে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, বন্যাকবলিত এলাকার লোকজনের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এলাকাবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সিরাজগঞ্জে যমুনার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
সিরাজগঞ্জে বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার কিছু কিছু বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, পাহাড়ি ঢল ও উজানে ভারী বর্ষণে কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বাড়ছে। তবে বড় ধরনের বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মেঘনার ভাঙন-আতঙ্কে রায়পুরার মানুষ
নরসিংদীর দুর্গম উপজেলা রায়পুরায় মেঘনার পানি বৃদ্ধি ও পানির তীব্র স্রোতে তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামে আবারও ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ফলে নদীপাড়ের কয়েকশ পরিবারের দিন কাটছে ভাঙন-আতঙ্কে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল মির্জারচর ইউনিয়নের মির্জারচর, কান্দাপাড়া, তাতাপাড়া, শান্তিপুর বাজার পর্যন্ত মেঘনায় পানির তীব্র স্রোতে তীরবর্তী কয়েক কিলোমিটার এলাকায় আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মির্জারচর এলাকায় গত কয়েক বছরে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনে পানি বৃদ্ধির ফলে মেঘনার তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকশ পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হোসেন বলেন, মেঘনা নদীবেষ্টিত মির্জারচরের নদী তীরবর্তী এলাকা বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনে অনেক পরিবার বাস্তুহারা হয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। আবারও ভাঙনের হুমকিতে কয়েকশ পরিবার। দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কয়েকটি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে।
মির্জারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার বলেন, এর আগে এলাকায় নদীভাঙনে ফসলি জমি, মসজিদ, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা নদীতীরবর্তী মানুষের দাবি। তা না হলে শত শত পরিবার বাস্তুহারা হয়ে যাবে।
জেলা পাউবোর প্রকৌশলী বিজয় চন্দ্র শংকর বলেন, ‘ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠান বলছে তাদের কাজ চলমান। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন হতে পারে। ভাঙন রোধে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বারবার ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠানকে বলা হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত জেলা মিটিংয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। এসব এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমেই ভাঙন রোধ করা সম্ভব।
ব্রহ্মপুত্রের পানিতে বন্দি চিলমারীর ১৫ হাজার মানুষ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণে ফের ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। এতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি বৃদ্ধির কারণে রাণীগঞ্জ, অষ্টমীরচর, নয়ারহাট ও চিলমারী ইউনিয়নে নতুন করে অর্ধশতাধিক বাড়িঘরসহ চলতি মৌসুমের নদীভাঙনে আট শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার একর আবাদি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের গয়নার পটল, বাতাসু কাজলডাঙ্গা, হাতিয়াবকশি, নাইয়ারচর, উত্তর খাউরিয়ারচর ও চর খেদাইমারী এলাকার ১ হাজার ৮ শতাধিক মানুষ, অষ্টমীরচর ইউনিয়নের চর মুদাফৎকালিকাপুর, হাসানের চর, নটারকান্দি, ছালিপাড়া, যুগ্মীদহ, খোর্দ্দবাঁশপাতার ও খামার বাঁশপাতার এলাকার ২ হাজার, রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বড়ভিটারচর, ৭২-এর চর, চর উদনা, নয়াবশ, মজারটারী, বাগানবাড়ী এবং দক্ষিণ খামার এলাকাগুলোর ১ হাজার ৫ শতাধিক, রমনা ইউনিয়নের গুড়াতিপাড়া, ব্যাঙমারা, ব্যাপারীপাড়া, হরিনেবন্দ, গরুহাটি, উত্তর রমনা, মাঝিপাড়া, ঝালোপাড়া, ভরট্টপাড়া ও নালারপাড় এলাকার প্রায় ৪ হাজার, থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা, ফকিরপাড়া, নামাচর, হাটখোলা, নামাটারী, ডেমনারপাড়া, আকন্দপাড়া, মাঝস্থল, নয়াবাড়ী, ফকিরেরকুটি, মজিদেরপাড়, হাটিথানা, বহরেরভিটা ও ফকিরেরভিটা এলাকার প্রায় ৫ হাজার এবং চিলমারী ইউনিয়নের ৫ শতাধিক মানুষসহ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের হাজার হাজার একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
পাউবোর গেজরিডার জোবায়ের হোসাইন জনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সাহায্য দেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, বন্যার্তদের জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা বণ্টনের প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাফিউল আলম বলেন, জিআরের বরাদ্দ ১০ মেট্রিক টন চাল থেকে রমনা ইউনিয়নে ৫ ও অষ্টমীরচর ইউনিয়নে ৩ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আজ তা বিতরণ করা হবে।
তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকরা।