বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ১৮:২৯ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ২২:১৫ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে অসিত কুমার দে। প্রবা ফটাে
বাগেরহাট সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র
(পিসি) কলেজের অধ্যক্ষের সই নকল করে চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের দায়ে
বরখাস্ত হওয়া হিসাব সহকারী অসিত কুমার দে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি উল্টো কলেজের অধ্যক্ষ ও তার ঘনিষ্টজনদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন। বরখাস্থাদেশ
তুলে নিয়ে স্বপদে পুনঃবহালের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।
অসিত কুমার দেব বলেন, সরকারি পিসি কলেজের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয় অধ্যক্ষ শেখ জিয়াউল ইসলাম ও তার সহযোগীদের ইশারায়। সহায়ক হিসেবে প্রধান সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন খান ভাউচার সমন্বয় করেন। ‘হিসাব সহকারী কাম-অফিস সহায়ক’ পদে অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী হওয়ায় হুকুমের দাস হিসেবে আমি চেক লেখা এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব পালন করতাম। কিন্তু কলেজের অধ্যক্ষসহ একটি কুচক্রিমহল আমাকে কলেজ থেকে বিতারিত করার জন্য, ভুয়া চেক জালিয়াতির অভিযোগ এনে, কোন প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং তদন্ত কমিটির কাজ পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই আমাকে চাকুরিচ্যুত করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ভুয়া দরপত্র, টুকিটাকি কমিটি, ভুয়া ভাউচার ও কোন প্রকার সরঞ্জাম ক্রয় ছাড়াই প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ (সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) মোঃ শাহ আলম ফরাজী ও তার ঘনিষ্টজনেরা। মূলত ভুয়া বিল ভাউচার, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার রাজস্বাক্ষী হওয়ায় নিজেদের কুকর্ম ঢাকতে তারা আমাকে বরখাস্ত করেছেন।
কলেজের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন নিয়ে জানতে চাইলে কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাপস চন্দ্র ঘরামি বলেন, কলেজের উন্নয়ন (পানির লাইনের) কাজের জন্য ২৪ হাজার ১৯২ টাকা আমি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে এনেছিলাম।
অফিস সহায়ক (ক্যাশিয়ার) শেখ মোদাচ্ছের আলী বলেন, কলেজের ক্যাশ থেকে ২৪ হাজার ১৯২ টাকা নিয়ে সমমূল্যের একটি চেক আমাকে দিয়েছিলেন অসিত কুমার দে। পরে ব্যাংক থেকে ওই টাকা তুলে সমন্বয় করেছি।
কলেজের উপাধ্যক্ষ (সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) শাহ আলম ফরাজী বলেন, অসিত যেসব অভিযোগ করেছেন, সবই মিথ্যা। মূলত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা ৮০ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে ফেরত দিতে বলা হয়েছে। এই টাকা না দেওয়ার জন্য এখন এসব মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া তার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত হচ্ছে, তদন্তে যদি আরও বেশি অর্থ আত্মসাতের প্রমান পাওয়া যায়, সে টাকাও তাকে ফেরত দিতে হবে।
উল্লেখ, গত ১১ জুন হিসাব সহকারী অসিত কুমার দে জনতা ব্যাংক থেকে স্বাক্ষর জাল করে ২৪ হাজার ১৯২ টাকা তুলে নেয়। মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝতে পারেন কলেজের অধ্যক্ষ। পরে ১৪ জুন অবৈধ ভাবে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে কলেজ প্রশাসন। ৩১ জুলাই অধ্যক্ষ প্রফেসর জিয়াউল ইসলাম অর্থ আত্মসাতের অপরাধে হিসাব সহকারী অসিত কুমার দেকে বরখাস্ত করেন।