কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ১৭:২১ পিএম
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রবা ফটো
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতঘেঁষা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামেই শুধু ৫০ শয্যার হাসপাতাল। প্রকৃতপক্ষে ৩১ শয্যার সেবাও নেই এই হাসপাতালে। যত্রতত্র পড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা, বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাশে থাকা টয়লেটগুলোর দরজা ভাঙা ও নোংরা, জরাজীর্ণ আর বিদ্যুৎ-পানি সংকট, মানহীন খাবারে অতিষ্ঠ রোগীরা।
সরেজমিনে হাসপাতালে কথা হয় বৈদ্যপাড়া গ্রামের আরিফা বেগমের সঙ্গে। এক মাস বয়সি নবজাতকের অসুস্থতার কারণে তিন ধরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের একটি শয্যায় অবস্থান করছিলেন। জানালেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কারেন্ট ছিল না। পুরো ওয়ার্ডে রিচার্জেবল একটি বাতি কিছুক্ষণ জ্বলছিল। এরপর অন্ধকার। দিনে-রাতে অনেকবার বিদ্যুৎ থাকে না। একই সমস্যার কথা জানায় মহিলা ওয়ার্ডের রোগী শিক্ষার্থী রুমানা।
পুরুষ ওয়ার্ডের বৃদ্ধ রোগী রত্তন খাঁ জানালেন, তাদের ওয়ার্ডে পানির সমস্যা। ঠিকমতো থাকে না। রোগী মোশাররফ হোসেন জানান, পানীর কল খারাপ। আর সমানে চলছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। পিঠে অপারেশন করে শয্যায় শায়িত আতাহার সর্দার। তার স্ত্রী কুলসুম বেগম জানান, ঠিকমতো পানি নেই। রোগীর মাথায় একটু পানি দেওয়ার সুযোগ নাই। একটি সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে কয়েক টুকরা আলুর ঝোল আর প্লেটে ভাত দেখিয়ে বলেন, হাসপাতাল থেকে দেওয়া এই দুপুরের খাবার।
একাধিক রোগী জানান, অধিকাংশ সময় এই খাবারই খেতে হয়। কখনও এক টুকরা ফার্মের মুরগি জোটে। আর মাছ তো জোটেই না, যদিওবা জোটে তাও চাষের পাঙাশ। তবে অধিকাংশ রোগী চিকিৎসকদের সেবা, খোঁজখবর নেওয়া, ব্যক্তিগত ব্যবহারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৫ সালে ছয় একর জমি নিয়ে কলাপাড়া হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় তিন লক্ষাধিক মানুষ এবং পাশের তালতলী-রাঙ্গাবালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এ হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার জানান, কলাপাড়ায় ৫১ শয্যার আর কুয়াকাটার ২০ শয্যার হাসপাতাল দুটিতে ৩৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১৮টি পদই শূন্য। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির আরও ৫৫ পদ শূন্য রয়েছে। আউটডোরে প্রতিদিন দুই-আড়াইশ রোগীর চিকিৎসা দিতে হয়। খাবারের মান নিয়ে ঠিকাদারের গাফিলতির কথা জানালেও বিষয়টি দেখবেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।