বরিশাল অফিস
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৩ ২০:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৩ ২১:২৩ পিএম
ছবি : ভিডিও থেকে সংগৃহীত।
বরিশাল
সিটি করপোরেশনের বিদায়ি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক
আব্দুল্লাহর ছবি নামিয়ে ফেলার শাস্তি হিসেবে মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু নামে এক আওয়ামী
লীগ নেতার গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে। বাচ্চুর গলায় জুতার মালা পরানো ও তাকে মারধর করার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এ
ঘটনায় রবিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এতে
প্রধান আসামি করা হয়েছে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক অনুসারী ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামুদ্দি
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারকে। তবে মারধর ও ভিডিও ভাইরাল
হওয়ার কথা স্বীকার করলেও জুতার মালা পরানোর কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নাজমুল হাসান
ওরফে মঈন জমাদ্দার।
ভুক্তভোগী
ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামুদ্দি
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অভিযুক্ত নাজমুল হাসান একই ইউনিয়ন আওয়ামী
লীগের সদস্য। তারা দুজন একসময় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লার অনুসারী ছিলেন।
সিটি নির্বাচনের পরে মনিরুজ্জামান খান নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খালেক আব্দুল্লার পক্ষে
অবস্থান নেন।
পরে তিনি নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ড বান্দ রোডে সোনার বাংলা মটরস নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে
মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি সরিয়ে ফেলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারের
নেতৃত্বে ২২ আগস্ট ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদ রহিম স্মৃতি পাঠাগার ক্লাবের একটি কক্ষে
নিয়ে বাচ্চুকে হেনস্থা করা হয়। পাশাপাশি জুতা পরানো এবং সাদিকের ছবি নামিয়ে অন্যায়
করেছে এমন একটা স্বীকারোক্তি আদায় করেন। পরে ওই ভিডিও মঈন জমাদ্দার ফেসবুকে ছড়িয়ে
দেন।
মনিরুজ্জামান
খান বাচ্চু বলেন, ‘মঈন জমাদ্দার আমার পূর্ব পরিচিত।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক
নেতার ছবি আছে। সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি আমার অফিস থেকে নামিয়ে রেখেছি এমন অভিযোগ তুলে
আমাকে মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।’
তিনি
আরও বলেন, ‘গত সিটি নির্বাচনে সাদিক মানোনয়ন
না পাওয়ায় আমি খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচনে অংশ নিই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ১৪ নম্বর
ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুর রহমান ছাবিদের ক্লাব হিসেবে পরিচিত শহীদ রহিম স্মৃতি পাঠাগার
ক্লাবের একটি কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পরে রুমে আটকে মঈন জমাদ্দারের নেতৃত্বে
সাব্বির, আব্দুল, কাওছার, সোহাগ মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে কাওছার জুতার মালা বানিয়ে
দেয় আর সোহাগ আমার গলায় পরিয়ে দেয়। পরে চেয়ারে বসিয়ে ভিডিও করে।’
ঘটনার
প্রধান অভিযুক্ত নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার বলেন, ‘মনিরুজ্জামান খান বাচ্চুর যে
ভিডিও ছড়িয়েছে তা আমি ছড়িয়েছি, এ কথা সত্য। তবে জুতার মালা পরানোর ভিডিওর সঙ্গে আমি
সম্পৃক্ত ছিলাম না। তা ছাড়া ওখানে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর নাম বলাটাও আমার উচিত হয়নি।
এটা আমি ভুল করেছি। এজন্য সাদিক ভাইও আমার ওপরে খুব ক্ষিপ্ত হয়েছেন।’
এ
বিষয়ে জুতার মালা পরানোর বিষয়ে অভিযুক্ত কাওছার আহমেদ ও সোহাগ হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ
করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত হাসান জানান, এ ঘটনায় নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।