চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ২০:০৪ পিএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ২০:২৮ পিএম
জিয়াউর রহমান ও তারেক জিয়া বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ট্র্যাজেডির খলনায়ক বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
তিনি বলেন, ’বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, একটি ময়লা আবর্জনার ডাস্টবিন। সমাজের উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত কিছু দুর্মুখ মানুষের আস্তানা। এই আস্তানায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বংশধররা জড়ো হয়েছে।’
শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে চান্দগাঁও থানা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বহদ্দারহাটস্থ এখলাসুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সভাটি হয়।
আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ’বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে ৭১-এ পরাজিত শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। একই সঙ্গে দেশবিরোধী রাষ্ট্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বানচাল করতে বঙ্গোপসাগরে নৌবহর পাঠিয়েছিল তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিদেশি পরাক্রমশালী দেশ বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশে তাদের একটি তাবেদার সরকার প্রতিষ্ঠার ছক তৈরি করেছে। এই ছক অনুযায়ী বিএনপির কথিত এক দফার আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বিএনপি লক্ষ-কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই টাকার উৎস কোথায় তার জবাবদিহি অবশ্যই বিএনপিকে করতে হবে।’
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ’৭১-এর পরাজিত শক্তির প্রত্যক্ষ মদদে ও পরিকল্পনায় পাকিস্তান ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার ঘৃণ্য মিশন পরিচালিত হয়। এ ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা এবং বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তির চিহ্ন মুছে দেওয়া। এই দুটি ঘটনার মূল খলনায়ক জিয়াউর রহমান ও তার পুত্র তারেক রহমান। জিয়াউর রহমান তার কৃতকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতির স্বীকার হয়ে নিহত হলেও তার পুত্র তারেক রহমান পলাতক আসামি হয়ে যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে এবং বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং হচ্ছে, কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই আগে যেমন সফল হয়নি এবারও সফল হবে না। কারণ এ দেশের মানুষ বুঝে গেছে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ছাড়া এ দেশের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আর কারও হাতে সুরক্ষিত নয়।’
সভায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, ’আওয়ামী লীগ কোনো আন্দোলনে কখনও পতন হয়নি। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ জনগণের দল হিসেবে জনগণই আওয়ামী লীগের মূল ক্ষমতার উৎস। এই ক্ষমতা এতই চিরস্থায়ী যে তা কখনও ধসে পড়ে না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী একটি দল। এই দলের মূল কান্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংকটের মধ্যেও জাতিকে সাহস জুগিয়ে সামনের দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন। এই প্রেরণা বারবার ঘুরে দাঁড়াবার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।’
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক-বিষয়ক সম্পাদক আবু তাহেরের সভাপতিত্বে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় শোকসভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজী মো. হোসেন, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক জোবাইরা নার্গিস খান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সামশুল আলম, নাজিম উদ্দীন চৌধুরী, অ্যাড. আইয়ুব খান, নিজাম উদ্দীন নিজু, সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু, মো. জসিম উদ্দীন, আশরাফুল আলম, খালেদ হোসেন খান মাসুদ, ইউনিট আওয়ামী লীগের আমিনুল ইসলাম আমিন, আজম খান প্রমুখ।