ইয়াজুল হত্যা
মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১১ পিএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৯ পিএম
মানিকগঞ্জের ঘিওরে চাঞ্চল্যকর ইয়াজুল হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) ভোরে ঘিওর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪।
র্যাব-৪ (সিপিসি-৩) এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন ঘিওরের পূর্ব আশাপুর গ্রামের সজীব, স্বাধীন ও শরিফ।
র্যাবের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চাঞ্চল্যকর ইয়াজুল হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানায়, বছর খানেক আগে ইয়াজুলের সঙ্গে স্থানীয় শরিফের ২ বিঘা জমি কেনা নিয়ে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ইয়াজুল শরিফের জমির মূল্য বাবদ পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে শরিফ জমির চুক্তিতে উল্লেখিত টাকার চেয়ে বেশি দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ায় ইয়াজুল জমি না নিয়ে শরিফকে জমি কেনা বাবদ অগ্রিম দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা ফেরত দিতে বললে শরিফ টাকা দিতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্যদের জানালে তাদের চাপে ইয়াজুলকে টাকা ফেরত দেন শরিফ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং ইয়াজুলকে খুনের পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট ইয়াজুলের চাচাত ভাই সজিবকে দিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ইয়াজুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন শরিফ। ইয়াজুলকে নিয়ে তারা স্বাধীনের ট্রলারে করে গঙ্গা নদীতে ঘুরতে যান। এ সময় আরও ৩/৪ জনকে নিয়ে যান শরিফ। নদীতে কিছুদূর যাওয়ার পর তারা শরিফ, সজিব ও স্বাধীনসহ আরও ৩/৪ জন মিলে ইয়াজুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। আসামিরা এ সময় ইয়াজুলের মোবাইল ফোন, তাকে হত্যায় ব্যবহৃত আলামত নদীতে ফেলে দেন।
পরে অনেক রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন ইয়াজুলকে খুঁজতে থাকেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোনো খোঁজ না পেয়ে ইয়াজুলের স্ত্রী ২২ আগস্ট ঘিওর থানায় জিডি করেন।
পরে সেদিনই ঘিওর থানাধীন কালীগঙ্গা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। সেটি উদ্ধারের পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি ইয়াজুলের বলে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় পরে মামলা হয়। আসামি করা হয় শরীফ, সজিব এবং স্বাধীনসহ অজ্ঞাত ৬/৭ জনকে।
মামলার পর ছায়াতদন্তে নামে র্যাব। পরে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।