মেহেদি হাসান রনি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৪ পিএম
নতুন ঘরে তৃতীয় লিঙ্গের মাহী-সুরভীদের সময় কাটছে নাচ-গান, হাসি-আনন্দে। প্রবা ফটো
তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য হওয়ায় সমাজে মূল্যায়ন পাননি কখনও। পদে পদে নিগৃহীত হলেও স্বস্তিতে ঠাঁইও পেতেন না কোথাও। প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প ‘স্বপ্নের নীড়ে’ সেই তারাই এখন পেয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা। কেউ ছাগল, হাঁস-মুরগি অথবা কবুতর পালন করছেন। কেউ বাড়ির আঙিনায় শুরু করেছেন শাকসবজির আবাদ। নতুন ঘরে ওঠার পর গান, হাসি-আনন্দে সময় পার করছেন তারা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে জমির মালিকানাসহ পাকা ঘরে এখন বদলে গেছে মাহীদের জীবন।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হোসেন মণ্ডলপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প ‘স্বপ্নের নীড়ে’ ২ শতাংশ জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর পেয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের মাহী, চায়না, অনু, অপর্ণা, সুরভীসহ সাত সদস্য। নতুন ঘরে এখন সবার সময় কাটছে নাচ-গান, হাসি-আনন্দে।
পুনর্বাসিত তৃতীয় লিঙ্গের নিলীমা জানান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে সবাই ভালো আছি। স্থায়ী ঠিকানা দিয়ে তিনি আমাদের নতুন জীবন দিয়েছেন। যে কাজটা আমাদের বাবা-মায়ের করার কথা ছিল, সেটা প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন।’
পুনর্বাসিত চায়না ও অনু বলেন, ‘পরিবার ও সমাজের লোক আমাদের ত্যাগ করেছে। তারা আমাদের ঘৃণার চোখে দেখলেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের সে নজরে দেখেননি। তিনি আমাদের কথা ভেবে আমাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন, এখানে আমরা অনেক ভালো আছি। আমরা তার জন্য দোয়া করি।’
উপজেলা তৃতীয় লিঙ্গের দলনেত্রী মাহীয়া মাহী বলেন, ‘বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন আমরা কখনও যে ঘর পাব, এটা কল্পনারও বাইরে ছিল। এমনও দিন গেছে আমরা বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে অনেক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি। আজ আমরা ২ শতাংশ জমিসহ পাকা ঘর পেয়েছি। এক টুকরো জমিতে শাকসবজি চাষ করছি। প্রধানমন্ত্রী নাম-ঠিকানাহীন আমাদের নাম-ঠিকানা দিয়েছেন। সরকারি হিসাবে সাতজনকে জায়গা দিলেও আমরা এখানে ১২ থেকে ১৫ জন আছি।’
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘গোয়ালন্দের স্থায়ী বাসিন্দা যাচাইবাছাই করে তৃতীয় লিঙ্গের এমন সাতজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। গত ২ এপ্রিল ২২ শতাংশ জায়গার ওপর ৭টি ঘর নির্মাণ করে তাদের কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তর করেছি। আগে তারা ঘর ভাড়া করে মানবেতর জীবনযাপন করতেন। এখন প্রকল্পের আঙিনায় তারা শাকসবজি, হাঁস, মুরগি, কবুতর, লালনপালন করছেন। গবাদিপশু লালনপালনে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থাসহ তাদের অনুরোধে একটি গরু পালনের শেড তৈরি করে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে।