চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২২ ২০:০৭ পিএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২ ০১:৫৩ এএম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। ছবি : সেতু কর্তৃপক্ষ
কর্ণফুলীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলে গাড়ি চলাচলে টোল প্রস্তাব করা হয়েছে একই নদীর ওপর বিদ্যমান শাহ আমানত সেতুর টোলের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবের সময় শাহ আমানত সেতুর টোল হার বিবেচনায় নিয়েছে বলে সেতু বিভাগের পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন।
শুরুতে সেতু কর্তৃপক্ষ অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল টানেলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেও পরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল রেখেই টোল চার্ট তৈরি করা হয়।
মনিরুজ্জামান ৯ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, প্রস্তাবিত টোল চার্ট যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয় দফা পাঠানো হয়েছে গত সপ্তাহে। তারা নতুন করে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমোদন দরকার হবে। তারপরই চূড়ান্ত হবে টানেলে গাড়ি চলাচলের টোল হার।
শাহ আমানত সেতুর বর্তমান টোল মোটরসাইকেল ১০ টাকা, অটোরিকশা ৩০ টাকা, বাস ১৫৫ টাকা, মিনিবাস ১০০ টাকা, মাইক্রোবাস, কার ও জিপ ৭৫-১০০ টাকা, মিনি ট্রাক ১৩০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ২০০ টাকা, ট্রাক ৩০০ টাকা ও লম্বা ট্রেলার ৭৫০ টাকা।
এর দেড় থেকে আড়াই গুণ বাড়িয়ে টানেলের টোল প্রস্তাব করা হয়েছে।
মনিরুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধু টানেলের ক্ষেত্রে শাহ আমানত সেতুর টোল চার্ট বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শাহ আমানত সেতুর চেয়ে দেড় থেকে আড়াই গুণ বেশি টোল প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অনুমোদন দিলে চূড়ান্ত হবে।
আদায়কৃত টোল দিয়ে টানেল রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে টানেল রক্ষণাবেক্ষণ করতে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন কোম্পানিকে (সিসিসিসি) পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টানেলের অপারেটরের ভূমিকায় থাকবে। এ জন্য সরকার ৯৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ৬৫০ কোটি টাকায় অপারেটর নিয়োগ চুক্তি হবে। এ ছাড়া একই প্রকল্পের আওতায় ৩০০ কোটি টাকায় গাড়ি ও স্ক্যানার কেনা হবে। বাকি ৩৩ কোটি টাকা টানেলের অন্যান্য কাজে ব্যয়ের জন্য রাখা হবে।
টানেলে জ্বালানিসহ দাহ্য পদার্থ বহনকারী যান চলাচলের বিষয়টি পরামর্শকের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনিরুজ্জামান।
কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন টানেল দিয়ে ১০-১২ হাজার গাড়ি চলবে।
প্রবা/টিকে/এমজে