× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কালের সাক্ষী বাইশরশি জমিদার বাড়ি

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১৭ পিএম

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের আটরশি-পুকুরিয়া সড়কের পাশে জরাজীর্ণ বাইশরশি জমিদার বাড়ি। প্রবা ফটো

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের আটরশি-পুকুরিয়া সড়কের পাশে জরাজীর্ণ বাইশরশি জমিদার বাড়ি। প্রবা ফটো

ফরিদপুরের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে বাইশরশি জমিদার বাড়ি অন্যতম। তবে বহু পুরোনো এই বাড়ির অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। অবশিষ্ট ভবন ও স্থাপনা অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে। তা সত্ত্বেও সদরপুর উপজেলার এই জমিদার বাড়ি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, এ নিদর্শন দ্রুত সংস্কার করে রক্ষণাবেক্ষণ করা হোক।

জেলাশহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের আটরশি-পুকুরিয়া সড়কের পাশে জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে বাইশরশি জমিদার বাড়ি। কালের সাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটি। বিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়িটি দেখার জন্য অনেকেই ছুটে আসেন। এককালে যাদের ছিল জাঁকজমকপূর্ণ বিলাসবহুল জীবনযাত্রা-জমিদারি প্রথা, তারা চলে যাওয়ার পর তাদের ব্যবহৃত দালানকোঠার ইট-সুরকি এখন খসে খসে পড়ছে। খসে যাওয়া দালানকোঠার ইটের ফাঁকে ফাঁকে এখন গজিয়েছে ডুমুর ও বটবৃক্ষ আর জমেছে শেওলার আস্তরণ। দর্শনার্থীরা জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আঠারো শতকের শুরুর দিকে প্রভাবশালী বাইশরশি জমিদাররা ফরিদপুর-বরিশালসহ ২২টি পরগনা বা জোতমহলের অধিপতি ছিলেন। সুকুমার চন্দ্র রায় বাহাদুর উপজেলার বাইশরশি গ্রামে এই বিশাল বাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে জমিদার বাড়িটি বাগানবাড়ি, পাঁচটি শান বাঁধানো পুকুর, দুটি পূজামণ্ডপ ও দ্বিতলবিশিষ্ট ছোট-বড় ১৪টি দালানকোঠা দিয়ে ঢেলে সাজানো ছিল। 

জানা যায়, সতেরো শতাব্দীর গোড়াপত্তনে এককালের লবণ ব্যবসায়ী সাহা পরিবার বিপুল অর্থসম্পত্তির মালিক হয়ে কয়েকটি জমিদারি পরগনা কিনে জমিদারি নেন। আঠারো শতক থেকে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের আগে জমিদার পরিবারটি অনেক ধনসম্পত্তির মালিক হয় এবং বিশাল জমিদারি হিসেবে ভারতবর্ষে খ্যাতি লাভ করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির পর থেকে ১৯৬২ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিদাররা কলকাতা থেকে জমিদারি পরিচালনা করতেন। জমিদারি প্রথা বাতিল হওয়ার পর জমিদার সুকুমার চন্দ্র রায় বাহাদুর ছাড়া সবাই কলকাতা চলে যান। ১৯৭১ সালে সুকুমার আত্মহত্যা করেন। এরপর বাড়িটিতে আর কোনো অভিভাবক না থাকায় পরিত্যক্ত হয়ে যায়। বর্তমানে বাড়িটির চারপাশের অনেক জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। প্রতিনিয়ত চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান দরজা-জানালা, লোহার কারুকার্যখচিত প্রত্নতত্ত্ব। রাতের বেলা বাড়িটি হয়ে উঠেছে চোর, ডাকাত ও মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না।

স্থানীয়দের দাবি, বাইশ রশি জমিদার বাড়ি ফরিদপুর জেলার একটি মূল্যবান সম্পদ। বাড়িটি পুনরায় সংস্কার করে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। 

বাইশ রশি জমিদার বাড়িতে অবস্থিত সদরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত নাজির কাম কম্পিউটার অপারেটর গোকুল চন্দ্র বলেন, এই জমিদার বাড়িতে পহেলা বৈশাখ, ঈদসহ নানা অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। এখানে বিশেষ দিনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হয়। সরকার এই বাড়িটি সংস্কার করে একটি পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন করলে ফরিদপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভালোভাবে জানতে পারবে।

সদরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিকুর রহমান জানান, এ অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বাইশ রশি জমিদার বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানাই। এলাকাবাসী জমিদার বাড়িটি সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

সদরপুরের ইউএনও আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, বাইশ রশি জমিদার বাড়িতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন। এটি ফরিদপুরের একটি অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আমি বাড়িটির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব, যাতে বাড়িটি একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা